সিলেট রিপোর্ট :
সিলেটের গ্রীন ডিসএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন (জিডিএফ) পরিচালিত জিডিএফ-ডিকেএফ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার মৌমি জিপিএ-৫ লাভ করায় তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী শামীম।
গত ৪ নভেম্বর বুধবার বিকালে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে গ্রীন ডিসএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশন (জিডিএফ)’র মহাসচিব ও নির্বাহী পরিচালক বায়জিদ খান এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জেলা পরিষদের প্রশাসকের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম বলেন, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী হয়েও সুস্থ ও স্বাভাবিক মানুষের মতো পড়াশোনায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে তাহমিনা আক্তার মৌমি। তার এই অভাবনীয় সাফল্য সত্যিই প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে মানুষের স্বপ্নপূরণ ও সাফল্যের পথে বাধা হতে পারে না, মৌমি তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, মৌমির এই অর্জন শুধু তার পরিবার কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য গর্বের বিষয়। অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো সম্ভব, মৌমি তা প্রমাণ করেছে। তিনি আরো বলেন, জিডিএফ কার্যালয় আমি কয়েকবার পরিদর্শন করেছি। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অনেক মেধা ও যোগ্যতা রয়েছে। পড়ালেখার মাধ্যমে তারা প্রতিষ্ঠিত হয়ে আরো এগিয়ে যাবে। তিনি জিডিএফ’র কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ^াস প্রদান করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সল, মহানগর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মহবুব চৌধুরী, জেলা পরিষদ প্রশাসকের একান্ত সচিব আমিন উদ্দিন আহমেদ, জিডিএফ’র সমন্বয়কারী শারমিন আক্তার রেবা, নির্বাহী সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক, হিসাব রক্ষক মোঃ শাহজাহান প্রমুখ।
এ সময় বায়জিদ খান জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান জিডিএফ। এখানে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মাধ্যমে তাদেরকে শিক্ষিত ও কর্মক্ষম হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। আনন্দের বিষয় হচ্ছে এবারের এইচএসএসি পরীক্ষায় আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তর মৌমি জিপিএ-৫ পেয়ে কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছে। তার মতো আরো অসংখ্য শিক্ষার্থী গড়ে তোলতে সরকার বরাদ্দকৃত প্রতিষ্ঠানের জায়গায়টি স্থায়ীকরণ, ভবন নির্মাণ সহ সব ধরনের সহযোগিতার প্রদানের অনুরোধ জানান।