July 31, 2026, 4:41 am
Title :
শিক্ষা ক্ষেত্রে মোহাম্মদ মকন মিয়ার অবদান এ অঞ্চলের মানুষ চিরদিন স্মরণ করবে-এম এ মালেক এমপি পদত্যাগ করলেন রাষ্ট্রপতি আল-আকসা মসজিদে ঢুকে চার সহস্রাধিক ইসরায়েলির তাণ্ডব  ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনের প্রতি সিলেটে ছাত্র সমাজের পূর্ণ সংহতি যুক্তরাজ্যে একই পরিবারের৩ সিলেটীর মর্মান্তিক মৃত্যুডেস্ক রিপোর্ট ২৫ বছরের আগে পদত্যাগ করলে পেনশন সুবিধা পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা এস আই পদে মো. একরাম হোসেনের যোগদান রামিশা হত্যাকান্ডে কোতোয়ালি থানা যুব জমিয়তের প্রতিবাদ ও দ্রুত বিচার দাবি ইউরোপের পথে প্রবাসীদের স্বপ্ন ও সংগ্রামের ব্যবচ্ছেদ পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম যুবককে কুপিয়ে হত্যা

গাজাবাসীর দুই বছরের নরকবাস

  • সিলেট রিপোর্ট ডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে— Sunday, October 12, 2025

শরণার্থী শিবির, রাস্তা-ধ্বংসস্তূপের পাশের তাঁবুজীবন শেষে ঘরে ফিরছে গাজাবাসী। চোখে-মুখে হারানো সংসার ফিরে পাওয়ার আনন্দ। ইসরাইলের বোমা হামলায় গুঁড়িয়ে যাওয়া, ধসে যাওয়া আবাসস্থলে আবার নতুন করে ঘর বাঁধার স্বপ্ন। বিধ্বস্ত উপত্যকায় শুরু হওয়া জীবনের এই নতুন আলোড়নের মাঝেই নেমে আসছে সেই পুরোনো বিষাদের ঢেউ-ধ্বংসস্তূপ সরাতেই বেরিয়ে আসছে পচাগলা লাশ। অজানা আশঙ্কায় মুহূর্তে সজল হয়ে উঠছে বাসিন্দার স্বজনহারা চোখ! তবে এসবের মধ্যেও সবচেয়ে বড় আনন্দটি হলো-শুক্রবার প্রথমবার একটি শান্তিপূর্ণ রাত কাটাল গাজাবাসী। যা তারা গত দুই বছরে কল্পনাও করতে পারেনি।

রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাত আর অন্তহীন আতঙ্কের পর অবশেষে এক নিঃশব্দ রাত কাটাল গাজাবাসী। আকাশে ড্রোন নেই। বোমা বিস্ফোরণের শব্দ নেই। চারদিকে নিস্তব্ধতা আর খুশির আমেজ। তবে প্রথম দফার যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও পরবর্তী আলোচনা বা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে শঙ্কা এখনো কাটেনি। পূর্ণ যুদ্ধবিরতি প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছে-গাজায় আন্তর্জাতিক শাসন বা ট্রাম্পের ’পিস বোর্ড’। যা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রত্যাখ্যান করেছে হামাস ও তার সহযোগী দলগুলো। আলজাজিরা, এএফপি, সিএনএন। 

বুধবার রাতে এ যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার রাতে নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভায় পাশ হওয়ার পর শুক্রবার দুপুর ১২টা (স্থানীয় সময়) থেকে কার্যকর হয় এ যুদ্ধবিরতি। এরপর থেকে ধীরে ধীরে উপত্যকা থেকে সরে যেতে শুরু করে সেনারা। যুদ্ধের ধুলো-ধোঁয়া কাটিয়ে, বিধ্বস্ত রাস্তায়, ভাঙা ঘরের দিকেই ফিরতে শুরু করে ক্লান্ত, ক্ষতবিক্ষত গাজাবাসীরা। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস ও রাফাহ থেকে উত্তরমুখী হতে শুরু করে হাজার হাজার মানুষ। কেউ হেঁটে, কেউ ভাঙাচোরা গাড়িতে, কেউ আবার ধ্বংসপ্রাপ্ত রাস্তায় শিশুদের কাঁধে নিয়ে ফিরছে নিজ ভূমিতে। যদিও অনেকেই তাদের ঘর-বাড়ি খুঁজে পাচ্ছেন না, তবুও তাদের চোখে-মুখে আনন্দের ছাপ। ৩২ বছর বয়সি আমির আবু ইয়াদে বলেন, ‘আমরা ফিরছি আমাদের ভূমিতে, যেখানে শুধু ধ্বংস আর ক্ষতচিহ্ন ছাড়া কিছুই নেই। তবু আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই, অন্তত এখন আমরা নিঃশ্বাস নিতে পারছি।’ যুদ্ধবিরতির খবর শোনার পর থেকেই খাবারের দামও কমতে শুরু করেছে গাজায়। তবে স্বস্তির মাঝে রয়েছে শোকের ছায়াও। কারণ ধ্বংসস্তূপ থেকে একের পর এক বের হচ্ছে লাশ। গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, ‘যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬৩টি মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’ এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

আরো খবর
Theme Customized By BreakingNews