ডেস্ক রিপোর্ট:
এই অমার্জনীয় ভুল যারা করেছেন, তা নিছক ভুল, নাকি ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে, সেটি খতিয়ে দেখা জরুরি। কারণ এর ফলে প্রধানমন্ত্রীর একটি উদ্যোগ অপ্রয়োজনীয়ভাবে বিতর্কিত হয়েছে। এর পেছনে যদি কোনো ষড়যন্ত্র বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভূমিকা থেকে থাকে, তাহলে সেই ‘গুপ্ত’ কারা, তাদের শনাক্ত করে জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আন্তর্জাতিক কোরআনুল কারিম প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া অভিশপ্ত সমকামী ইয়াহুদীর লেখা ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জনাব মোহাম্মদ শামীম কায়সার।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ দপ্তরে বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে তিনি বইটি ফেরত নেন।
সামাজিক মাধ্যমে বিস্তার হওয়া বিরুপ প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করে সরকারের এমন দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসার দাবি রাখে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহারের তালিকায় যারা এই বই উপহার হিসেবে সংযোজন করেছে,তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার শক্তিসাহস কি আছে সংশ্লিষ্টদের?
আশ্চর্যের ব্যাপার হলো একজন বয়স্ক মন্ত্রী, আরেকজন ইয়াং সমাজ সচেতন প্রতিমন্ত্রী সামনে ছিলেন। এমতাবস্থায় বিতর্কিত বই হাফেজদের উপহারের তালিকাভুক্ত হলো কি করে?
অপর দিকে নারী হাফেজা এবং ছেলে হাফেজদের একত্রিত করে সমকামী লোকদের পরিবেষ্টিত আয়োজনে হাফেজদের অভিভাবক নামক কতিপয় “কাঠমোল্লা”রা বেহায়ামি তরিকায় বিতর্কিত উপহার নিলেন আবার ছেলে-মেয়েদের ক্যামেরার সামনে এনে নির্লজ্জের মতো উপহার ফেরত দিলেন!
সচেতন মহলের প্রশ্ন ধর্ম মন্ত্রনালয়ে লুকিয়ে থাকা,সমকামি সমর্থক চক্র দেশ জাতি সরকার ও ইসলামের শত্রু,এদের রুখতে না পারলে সরকারের জন্য বিপদ অত্যাসন্ন।
শুধু সরকার নয়, ব্যক্তি তারেক রহমানের আত্মসম্মান এমন কি প্রধানমন্ত্রীর জীবনের নিরাপত্তা নিয়েও আমরা উদ্বিগ্ন। এই একটি কাজের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সকল ভালোকাজের ও স্বীকৃতি আজ প্রশ্নবিদ্ধ।
এব্যাপরে মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ বলেন, “সামাজিক মাধ্যমে যারা সোচ্চার ভুমিকা রেখেছেন,তাদের মুবারকবাদ জানাই। আল্লাহ আমাদের ইসলাম ও মানবতা বিরুধী
সকল কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সোচ্চার থাকার
হিম্মত দিন।”
রাসেল মাহফুজ লিখেন “প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিশ্বজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। চমৎকার এই আয়োজনটি যতটুকু প্রচার পাওয়া উচিৎ তা হয়নি। সম্ভবত রাষ্ট্রীয়পর্যায়ে এই প্রথম বড় কোনটা আয়োজন। তবে সেই সংবর্ধনায় কোমলমতি শিশুদের হাতে যে বইয়ের একটা প্যাকেজ তুলে দেওয়া হয়েছে সেই প্যাকেজে এলজিমার্কা একটা বইও ছিলো।
বিতর্কিত সেই ‘Nexus’ বইটি নিয়ে সর্বপ্রথম আওয়াজ তুলেন বিএনপিরই একজন ডানপন্থী ইনফ্লুয়েন্সার ডা. আসিফ সৈকত। তিনি একটা পোস্টে এর সাথে জড়িতদের বিচার না হলে দলীয় সকল প্রচারণা থেকে দায়মুক্তি ঘোষণা করেছেন। এই নিউজটি করেছে ফেস দ্য পিপল।
শেষপর্যন্ত বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি প্রয়োজনীয় একটি পদক্ষেপ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বই দেওয়ার আগেই কি বিষয়টি চিন্তা ও যাচাই-বাছাই করা উচিত ছিল না?
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে বইটি ফেরত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিজয়ী হাফেজদের জন্য ঘোষিত আন্তর্জাতিক সফর ও সহায়তাসহ অন্যান্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ৪৬তম বাদশাহ আবদুল আজীজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশি হাফেজদের উপহার হিসেবে দেওয়া ‘নেক্সাস’ বই ফেরত নিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ দপ্তরে বিজয়ী হাফেজদের কাছ থেকে তিনি বইটি ফেরত নেন।
এ সময় বিজয়ী হাফেজ ও তাঁদের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বজয়ী হাফেজে কুরআনদের মতো সম্মানিত ও কোমলমতি শিক্ষার্থীদের রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কোন বই উপহার দেওয়া হবে, সেটি নিশ্চয়ই যথাযথভাবে যাচাই করার বিষয়। অথচ বিতর্কিত ‘Nexus’ বইটি কীভাবে উপহারের তালিকায় এলো, কারা এটি নির্বাচন করল এবং কার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে পৌঁছাল—এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর জনগণের জানা প্রয়োজন।
শুধু বই দিয়ে পরে আবার ফেরত নিলে মূল সমস্যার সমাধান হয় না। বরং ইতোমধ্যে বইটি তাদের হাতে পৌঁছেছে এবং এর মাধ্যমে যে প্রচার ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেটিও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
তাই এখন সবচেয়ে জরুরি হলো—বইটি কীভাবে সেখানে গেল, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং কেন যথাযথ যাচাই-বাছাই করা হলো না—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। যদি দায়িত্বে অবহেলা বা ইচ্ছাকৃত কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের প্রচলিত আইনের আওতায় জবাবদিহির মুখোমুখি করতে হবে।
ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিশেষ করে কুরআনের হাফেজদের মতো সম্মানিত শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানে বই বা উপহার নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটি কার্যকর যাচাই-বাছাই ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি।
ভুল সংশোধন শুধু বই ফেরত নেওয়ার মাধ্যমে নয়; ভুলের উৎস চিহ্নিত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই পূর্ণতা পায়।
উল্লেখ্য যে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে
সংবর্ধনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সেদিন বলেন, দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে যে কোনো ভালো অর্জন করলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তার স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে সরকার।
উপস্থাপনায়:
মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী
২০.০৯.২০২৬