সিলেট রিপোর্ট: আজ ৫ আগস্ট। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি। মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার দিন, বিজয়ের দিন, গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার দিন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসন ও দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের এই দিনে আমাদের বীর ছাত্র-জনতা এক ঐতিহাসিক বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল।
শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি এই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরি করতে গিয়ে ফ্যাসিবাদের ১৬ বছর যারা শহীদ, গুম, খুন, ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন। বিনম্র চিত্তে স্মরণ করছি ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের।
শেখ হাসিনার ১৬ বছরে জীবন দিতে হয় ৬৮ জন সাংবাদিককে। শুধু জুলাই বিপ্লবের সময় জীবন দিতে হয়েছে ৬ জন সাংবাদিককে। আহত ও জেলে যেতে হয়েছে অনেককে।
পিলখানায় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়। শাপলা চত্বরে ব্রাশফায়ারে অসংখ্য আলেমকে হত্যা করা হয়। গুম-খুন ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। ভিন্নমতের লোকদের ধরে নিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে নদীতে ফেলে দেয়া হতো। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, কৃষিবিদ, শিক্ষক, ব্যাংকার থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক কর্মী- কেউ রেহাই পায়নি শেখ হাসিনার নিষ্ঠুরতা থেকে।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা করা হয়। একইভাবে জামায়াতে ইসলামী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, হেফাজতে ইসলাম সহ অন্যান্য বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ওপরও চালানো হয় নিষ্ঠুর নির্যাতন।
আমরা আজকের এই দিনে আরো শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি ৫২, ৬৯ ও ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের। এদিন ছাত্র-জনতার সম্মিলিত বিপ্লবে পতন ঘটে জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের। ঐতিহাসিক এ দিবসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।