October 3, 2026, 2:49 am
Title :
কওমি মাদরাসায় শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সংস্কারের পরামর্শ আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে সাফল্য অর্জনকারী সিলেটের ২ শিক্ষার্থী বিমানবন্দরে সংবর্ধিত বিনিয়োগে প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ বাণিজ্যমন্ত্রীর বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি: জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষার উন্নয়নে এপেক্স ক্লাবের কার্যক্রম প্রশংসনীয়— ডাঃ জহিরুল ইসলাম অচিনপুরী মিষ্টির পদত্যাগ গ্রহণ করে আসন শূন্য ঘোষণা গোলাপগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন বালাগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আনোয়ারুল ইসলামের সমর্থনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসকের সাথে কোতোয়ালি থানা জমিয়ত নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ গরিবের রাড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্র সহ অব্যাহত হামলা দখলবাজ ও অপরাধীরা বেপরোয়া —- দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরাম

আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে সাফল্য অর্জনকারী সিলেটের ২ শিক্ষার্থী বিমানবন্দরে সংবর্ধিত

  • সিলেট রিপোর্ট ডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে— Friday, October 2, 2026

সিলেট রিপোর্ট:
রাশিয়ার সিরিয়াসে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াড অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইস্যুজ (আইওসিই) ২০২৬-এ অসাধারণ সাফল্য অর্জনকারী সিলেটের ২ শিক্ষার্থী দেশে ফিরেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিমানের একটি ফ্লাইটে তারা দেশে ফিরেন। এসময় ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদেরকে পরিবারের সদস্যরা, স্কুলের শিক্ষকরা, ওসমানী বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

সাফল্য অর্জনকারী ২ শিক্ষার্থী হলেন- সিলেটের জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আবু মাহজুরাহ্ আইমান ও একই শ্রেণির এস এম আনফাল হাবিব। তাদের মধ্যে স্বর্ণপদক অর্জনের পাশাপাশি সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রতিযোগিতার সার্বিক বিজয়ী নির্বাচিত হয়েছেন আইমান এবং ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেছেন আনফাল হাবিব। তারা দেশের হয়ে এই সফলতা অর্জন করায় তাঁদের পিতামাতার পাশাপাশি শিক্ষক, সহপাঠী, স্বজন ও এলাকাবাসীরা গর্ববোধ করছেন।
এই প্রতিযোগিতায় ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাবিহা নুরজিনাও ব্রোঞ্জপদক অর্জন করেছেন এবং সেই স্কুলের নবম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী ইসমাহ আরুশ পেয়েছেন সম্মানসূচক স্বীকৃতি।

সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে স্বর্ণপদক জয়ী আবু মাহজুরাহ্ আইমান তার অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, যখন আমার নাম ঘোষণা করা হলো, তখন আমি সত্যিই অবাক হয়েছিলাম। আমার পরীক্ষাটা খুব ভালো হয়েছিল এবং আমি ভেবেছিলাম যে আমি হয়তো কোনো একটা পদক পাওয়ার যোগ্য; কিন্তু সেটা যে শেষ পর্যন্ত স্বর্ণপদক হবে, তা আমি আশা করিনি। হ্যাঁ, এটা একটা স্বপ্ন ছিল এবং আমি তা পূরণ করেছি। অভিজ্ঞতাটি বেশ ক্লান্তিকর ছিল এবং মাঝে মাঝে বেশ কঠিনও মনে হয়েছে; তবে হ্যাঁ, স্বর্ণপদক জয়ের পর আমি খুবই খুশি এবং ভবিষ্যতেও এমন সাফল্য অব্যাহত রাখতে চাই। এই অলিম্পিয়াডের প্রধান টপিকটা ছিল ইকোলজি, ক্লাইমেট চেঞ্জ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ইস্যুস। তাই, প্রথমে ফেস্টিভাল অফ প্রজেক্টস ছিল, ওইখানে আমরা প্রেজেন্টেশন করছি। পরে আমাদের ছিল প্র্যাকটিক্যাল রাউন্ড, যেখানে আমাদেরকে সোচিতে, রাশিয়া পাহাড়ে নিয়ে গেছে। পাহাড়ে নিয়ে আমরা বিভিন্ন ধরনের এনালাইসিস এবং ডাটা কালেকশন নিয়ে পরে ল্যাবে আমাদের প্র্যাকটিক্যাল করছি। ল্যাব প্র্যাকটিক্যাল এনালাইসিস একটা টিমওয়ার্ক ছিল, এরপরে ছিল ইন্ডিভিজুয়াল। ইন্ডিভিজুয়ালে পরে আমি আর আনফাল মেডেল পাইছি। এর পরে আমাদের ছিল টিম থিওরেটিক্যাল এবং এগুলাই হইলো গিয়ে আমাদের যতটুকু পর্যন্ত কম্পিটিশন করছি।

ব্রোঞ্জপদক অর্জনকারী এস এম আনফাল হাবিব বলেন, অলিম্পিয়াড ছাড়াও আমাদের অনেকগুলো শিক্ষামূলক ভ্রমণে নিয়ে গিয়েছিলেন তারা। আমরা সেগুলো খুব উপভোগ করেছি। আমরা গাছও লাগিয়েছিলাম; আর ব্যবহারিক পর্ব ও ফিল্ড ট্রিপগুলো সত্যিই দারুণ ছিল, কারণ তারা আমাদের পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়েছিল এবং আমরা অনেক কিছু দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম। ভ্রমণগুলো বেশ উপভোগ্য ছিল কারণ সেখানকার কিউরেটররা আমাদের বিভিন্ন বিষয়ের ইতিহাস ও খুঁটিনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছিলেন। এছাড়া রাতে বেশ কিছু ছোটখাটো খেলার আয়োজনও ছিল—সত্যি বলতে, পুরো অভিজ্ঞতাটাই ছিল চমৎকার।

এবিষয়ে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজের বায়োলজি বিভাগের প্রদর্শক দিলদার হোসাইন মাসুম বলেন, তাদের অর্জনে আমরা সত্যিই গর্বিত। এটা আমাদের দেশের জন্য, আমাদের প্রতিষ্ঠান জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের জন্য একটি বড় অর্জন। এই প্রতিযোগিতাগুলো হচ্ছে ধারাবাহিকভাবে আঞ্চলিক পর্যায়, জাতীয় পর্যায় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই সেগমেন্টগুলা হয়ে থাকে। আমাদের স্টুডেন্টকে আমরা আঞ্চলিক পর্যায় থেকে ধারাবাহিকভাবে মোটিভেট করে ও সঠিক গাইড করে আমরা বাংলাদেশের জন্য ফার্স্টলি প্রিপেয়ার করেছি। পরে আমরা রাশিয়ার জন্য কিভাবে ওরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কম্পিটিশনে অংশগ্রহণ করতে পারবে, আমরা তাদেরকে প্রিপেয়ার করে আজ বাংলাদেশের জন্য তারা একটা বিগ অ্যাচিভমেন্ট নিয়ে আসছে।
এস এম আনফাল হাবিবের বাবা ও শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানী লিমিটেডের উপ-প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) এস. এম. আমিরুল ইসলাম বলেন, “মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট অশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। আইমান এবং আনফাল দেশের জন্য যে সম্মান বয়ে এনেছে, আমি, আমরা তার জন্য গর্বিত। বাবা হিসেবে আমি মনে করি জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল অ্যান্ড কলেজের সম্মানিত টিচাররা যে ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছে আজকে এই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আসার জন্য, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। আশা করছি এই সাফল্য আরো অব্যাহত থাকবে এবং দেশের সম্মান বয়ে আনবে।

আবু মাহজুরাহ্ আইমানের বাবা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমি বাবা হিসেবে গর্বিত। আমি শুধু একা গর্বিত না, তার প্রতিষ্ঠান, দেশবাসী সবাই গর্বিত। আমার ছেলে হোক বা আনফাল, দুইজনে যে যে অর্জনটুকু নিয়ে আসছে দেশের জন্য, পরিবারের জন্য, সেটা অবশ্যই সবার জন্য গর্বের বিষয়। আমি ধন্যবাদ জানাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের প্রতি, উনারাও অনেক প্রচুর পরিশ্রম করেন। আর আমরা বাবা-মা হিসেবে চেষ্টা করছি, বাকিটা আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত এই অর্জন। আমি ছেলেকে বলতাম যে, বাবা তুমি চেষ্টা করে যাও, তুমি দেশ ও পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করার জন্য চেষ্টা করবে, বাকিটা আল্লাহ ভরসা। আলহামদুলিল্লাহ, আমার ছেলে সেই গৌরব নিয়ে আসছে, আমি তাতে অনেক খুশি।”

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজের আইসিটির সিনিয়র শিক্ষক ওয়াহিদুল ইসলাম, পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক মো. হারুন উর রশীদ, আইমানের মা রোজিনা বেগম ও আনফালের মা ব্যবসায়ী মোমেনা খাতুন ডলি সহ তাদের পরিবারের স্বজনরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এবারের আইওসিই ২০ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রতিযোগীরা এবারের আয়োজনে অংশ নেয়। প্রতিযোগিতাটি কেবল একটি লিখিত পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বাস্তব পরিবেশে নমুনা সংগ্রহ, গবেষণা, পরীক্ষাগারে নমুনা বিশ্লেষণ, ব্যক্তিগতভাবে সমস্যা সমাধান এবং দলগত বৈজ্ঞানিক কাজের সমন্বয়ে পুরো আয়োজনটি ছিল বহুমাত্রিক।
আইওসিই-এর প্রতিযোগিতামূলক কাঠামোর প্রধান দুটি অংশ ছিল তাত্ত্বিক পর্ব এবং ব্যবহারিক পর্ব। তাত্ত্বিক পর্বে প্রতিযোগীরা ব্যক্তিগতভাবে অংশ নেয়, আর ব্যবহারিক পর্বটি মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধান ও পরীক্ষাগারভিত্তিক বিশ্লেষণের সমন্বয়ে পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশের আইওসিই যাত্রা শুরু হয়েছিল বাংলাদেশ অলিম্পিয়াড অন ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইস্যুজ (বিওসিই) ২০২৬-এর মাধ্যমে। বিওসিই আয়োজন করে সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেস নেটওয়ার্ক (এসএলএসএন) এবং জিরো কম্পিটিশনস।
বিওসিই ২০২৬-এর বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৭ জুলাই দেশব্যাপী প্রাথমিক পর্বের মাধ্যমে, যেখানে চার হাজারেরও বেশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এরপর দেশব্যাপী আঞ্চলিক পর্ব এবং অনলাইন আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে নির্বাচিত ৩০০ শিক্ষার্থী ২১ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে জাতীয় পর্বে অংশ নেয়। পরবর্তীতে প্রশিক্ষণ এবং চূড়ান্ত দল নির্বাচন পরীক্ষার মাধ্যমে আইওসিই ২০২৬-এর জন্য বাংলাদেশ দল নির্বাচন করা হয়।
চার হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে নিয়ে বাংলাদেশে শুরু হওয়া এই যাত্রা শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মঞ্চে সার্বিক বিজয়ী, একটি স্বর্ণপদক, দুটি ব্রোঞ্জপদক এবং একটি সম্মানসূচক স্বীকৃতি অর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।

শেয়ার করুন

আরো খবর
Theme Customized By BreakingNews