October 13, 2026, 3:53 am
Title :
হত দরিদ্রদের মধ্যে রহমানীয়া প্রতিবন্ধী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের রিক্সা বিতরণ দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট জেলা রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ সিলেট দরগাহ মাদরাসায় মামুনুল হকের দরস ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে পাঁচ দফা দাবি ‘ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’র মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম বাংলাদেশের ইহতেশামুল হক ইমরান খানের দলের সরকারকে হটিয়ে খাইবার পাখতুনখোয়ায় গভর্নর শাসন জারি বৈশাখী যুব কল্যাণ পরিষদের উপদেষ্টা রাসেল মাহবুব-কে সংবর্ধনা প্রদান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান রিপনের মাতার সুস্থতা কামনায় তুরুকখলা হাড়িয়ারচর জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল সিলেটে হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৫১৫ সৌদি আরবে বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশের নিন্দা

সিলেট দরগাহ মাদরাসায় মামুনুল হকের দরস ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

  • সিলেট রিপোর্ট ডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে— Monday, October 12, 2026

সিলেট রিপোর্ট:

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া ক্বাসিমুল উলুম দরগাহে শাহজালাল (রহ.) মাদরাসায় মাওলানা মামুনুল হকের আগমন ও দাওরায়ে হাদিসের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বুখারি শরিফের সংক্ষিপ্ত দরস প্রদানকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই ঘটনাকে আলেমদের পারস্পরিক সম্মান ও ঐক্যের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ  দরসের পরিবেশ, বক্তব্যের উপস্থাপনা এবং প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

জানাগেছে, গতকাল রোববার (১১ অক্টোবর) বাদ মাগরিব জামায়াতের নেতৃত্মাবাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক দরগাহ মাদরাসায় যান। সম্পর্কে মাদরাসার মুহতামিম ও মুহাদ্দিস  মাওলানা মাশুক উদ্দিন (বড়বাড়ি হুজুর) সিলেট রিপোর্টকে জানিয়েছেন, মাওলানা মামুনুল হক মাদরাসায় এসেছিলেন, তবে তাঁরা তাঁকে দাওয়াত দেননি। তিনি দাওরায়ে হাদিসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন বলেই তাঁকে সেই সুযোগ করে দেওয়া হয়।

‘আমরা দাওয়াত দিইনি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন’

মাওলানা মামুনুল হকের দরগাহ মাদরাসায় আগমন প্রসঙ্গে বড়বাড়ি হুজুর সিলেট রিপোর্টকে বলেন, তাঁরা মাওলানা মামুনুল হককে দাওয়াত দেননি। তিনি দাওরায়ে হাদিসের ছাত্রদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন। সে কারণেই তাঁকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।

বড়বাড়ি হুজুরের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময়

কাজিরবাজার মাদরাসার মুহাদ্দিস ও মজলিস নেতা মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ এর বিবরণ অনুযায়ী, সিলেট সফরের একপর্যায়ে গতকাল বাদ মাগরিব মাওলানা মামুনুল হক জামেয়া দরগাহে যান। সেখানে মাদরাসার মুহতামিম ও মুহাদ্দিস, বর্ষীয়ান আলেম মাওলানা মাশুক উদ্দিন বড়বাড়ি হুজুর তাঁকে স্বাগত জানান। মুহতামিমের কক্ষে তাঁদের মধ্যে প্রায় এক ঘণ্টা আন্তরিকতাপূর্ণ মতবিনিময় হয়। এ সময় মাওলানা মামুনুল হক বড়বাড়ি হুজুরের কাছে নসিহত প্রত্যাশা করেন। জবাবে মাওলানা মাশুক উদ্দিন বলেন, তিনি রাজনীতি বোঝেন না; রাজনীতিকে দূরে রেখে কওমি আলেমদের ঐক্য দেখতে চান। এর জবাবে মাওলানা মামুনুল হক বলেন, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তিনি পাকিস্তানের মুফতি ফজলুর রহমানকে অনুসরণ করে চলছেন। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ঐক্য মানে স্বকীয়তা বিসর্জন দেওয়া নয়; আকাবির-আসলাফের নীতি-আদর্শ ও আকিদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রে চুল পরিমাণ ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তাঁদের এই মতবিনিময়ে কওমি আলেমদের ঐক্য, রাজনৈতিক অবস্থান এবং ধর্মীয় আদর্শ অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

দাওরায়ে হাদিসের দরসে মামুনুল হক:

মতবিনিময় শেষে মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা মামুনুল হককে হাত ধরে দাওরায়ে হাদিসের দরসে নিয়ে যান। সেখানে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী তাঁর বক্তব্য শোনার অপেক্ষায় ছিলেন বলে প্রকাশিত বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। জামেয়া দরগাহের উস্তাদ মুফতি রশিদ আহমদ সংক্ষিপ্ত স্বাগত বক্তব্য দেন। পরে মাওলানা মামুনুল হক বক্তব্য রাখতে গিয়ে এত বড় ও মর্যাদাপূর্ণ দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাদিসের দরসে কথা বলার যোগ্য নন বলে বিনয় প্রকাশ করেন। তিনি দ্বীনি কাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র হিসেবে তালিম, তাবলিগ, তাযকিয়া, জিহাদ ও সিয়াসাতের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, উলামায়ে দেওবন্দ এসব ক্ষেত্রে ত্যাগ ও কুরবানির মাধ্যমে দ্বীনের কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, উলামায়ে দেওবন্দের রাজনৈতিক কার্যক্রমের উদ্দেশ্য কেবল ক্ষমতা অর্জন নয়; বরং সমাজ থেকে অন্যায় দূর করা এবং অন্যায়ের প্রতিরোধে ভূমিকা রাখাও এর লক্ষ্য। তাঁর বক্তব্যে দেওবন্দি ধারার রাজনৈতিক কার্যক্রমের সামাজিক ও নৈতিক উদ্দেশ্যের বিষয়টি উঠে আসে।

শিক্ষার্থীদের অনুরোধে বুখারি শরিফের দরস:

সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের অনুরোধে মাওলানা মামুনুল হক বুখারি শরিফের প্রথম হাদিসের ওপর সংক্ষিপ্ত দরস প্রদান করেন। এ সময় একজন শিক্ষার্থী বুখারি শরিফের প্রথম হাদিসের আরবি ইবারত পাঠ করেন।

ঘটনার বিবরণে শিক্ষার্থীর কণ্ঠে হাদিস পাঠের প্রশংসা করা হয়েছে। দরসের এই পর্বকে ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিবাচক মন্তব্য দেখা গেছে। কেউ দরসকে ‘চমৎকার’ বলে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ দরগাহ মাদরাসার ঐতিহ্য ও শিক্ষার পরিবেশের সঙ্গে ঘটনাটির উপস্থাপনা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

উপস্থিত ছিলেন যেসব আলেম ও ব্যক্তিত্ব

অনুষ্ঠানে জামেয়া দরগাহের সিনিয়র উস্তাদ এবং দরগাহ মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা আসজাদ আহমদ, জামেয়া শামীমাবাদ মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা সৈয়দ শামীম আহমদসহ সংশ্লিষ্ট আলেমরা উপস্থিত ছিলেন। মাওলানা মামুনুল হকের সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন বিকেএমের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ এমপি, মাওলানা রেজাউল করিম জালালি, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মাওলানা মুহসিনুল হাসান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য আলহাজ মাওলানা আতাউর রহমান, মাওলানা ইহসানুল হক ও মাওলানা এমরান আলমসহ আরও অনেকে।

সামাজিক মাধ্যমে সমর্থন ও সমালোচনা:

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত মন্তব্যগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান দেখা যাচ্ছে। একদল ব্যবহারকারী মাওলানা মামুনুল হকের দরসকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের কেউ কেউ অতিথি আলেমকে সম্মান জানানো এবং কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরেছেন। একটি মন্তব্যে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অন্য উস্তাদ ও শিক্ষার্থীরা যেভাবে দরসে অংশ নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। মন্তব্যকারীর মতে, এর মাধ্যমে দরগাহ মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আকাবির-আসলাফের চেতনা ও আদর্শের প্রতিফলন ঘটেছে।

অন্যদিকে, কয়েকজন মন্তব্যকারী দরগাহ মাদরাসার ঐতিহ্য, শিক্ষার পরিবেশ এবং বক্তব্যের উপস্থাপনা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ দরসের ভাষা ও আলোচনার ধরন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার কেউ রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলেমদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও ঐক্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন।

কিছু মন্তব্যে আলেমদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে আবেগপূর্ণ প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়। তবে এসব মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের নিজস্ব মতামত। এগুলোকে দরগাহ মাদরাসার সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী কিংবা বৃহত্তর আলেমসমাজের অভিন্ন অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

শিক্ষাসচিবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জামেয়া ক্বাসিমুল উলুম দরগাহে শাহজালাল (রহ.)-এর শিক্ষাসচিব মাওলানা আতাউল হক জালালাবাদীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

ঐতিহ্য, আদর্শ ও মতপার্থক্যের প্রশ্ন

জামেয়া ক্বাসিমুল উলুম দরগাহে শাহজালাল (রহ.) সিলেটের একটি ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন আলেমের আগমন, তাঁদের বক্তব্য এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় ধর্মীয় অঙ্গনে আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে। মাওলানা মামুনুল হকের এবারের সফরকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—আলেমদের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য কীভাবে সামাল দেওয়া যায়, ধর্মীয় আদর্শ ও স্বকীয়তা বজায় রেখে ঐক্য প্রতিষ্ঠা কীভাবে সম্ভব এবং ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও শিষ্টাচার কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থন ও সমালোচনা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই দেখা যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে, দরগাহ মাদরাসায় মাওলানা মামুনুল হকের আগমন ও দরসকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া আলোচনা কেবল একজন আলেমের সফরেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং কওমি অঙ্গনের ঐক্য, ধর্মীয় ঐতিহ্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং পারস্পরিক সম্মানের প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। প্রতিবেদনের সাথে কয়েকজনের ফেসবুক মন্তব্যের স্কীনশর্টও দেওয়া হলো।

এ ব্যপারে  মাওলানা মখলিছুর রহমান রাজাগঞ্জী তার ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন:   ‘অনেকেই দেখছি – সমালোচনা করছেন দরগাহ মাদ্রাসায় ইবনে শায়খুল হাদীসের কিছু সময়ের জন্য দারসে হাদীসের মসনদে বসার কারণে। আমি এতে কোনো সমালোচনা বা ধিক্কার জানানোর কিছুই দেখছিনা। আমি অবাক হবোনা যদি সেখানে কখনো জামায়াতের রাশমিকা মান্দানা হুজুরও দারস দিতে আসেন। কারণ জামেয়া কাসিমুল উলুম দরগাহ সিলেট হলো একটা জাতীয় পর্যায়ের মাদরাসা। এখানের ছাত্র শিক্ষক রাজনীতিমুক্ত। তারা নিজেরা রাজনীতি করেননা – তবে সর্বরাজনীতির নেতৃবৃন্দের আগমনের দরজা এখানে খোলা। এখানে অতীতে হাফিজ্জি হুজুর যেমন এসেছেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও এসেছেন। আজ ইবনে শায়খুল হাদীস এসেছেন কাল হয়তো জামায়াতের রাশমিকা মান্দানা হুজুরও আসবেন। দরগাহ মাদ্রাসা সকলকেই বরণ করে নিতে এবং উপযুক্ত সম্মান দিতে জানে “

মাওলানা আব্দুল গাফ্ফার ছয়গড়ী লিখেছেন:

একটি স্মৃতি
একদিন আমি সুনামগঞ্জী হুজুর রাহ. এর কক্ষে বসা। তিনি তখন দরগাহ মাদরাসার মুহতামিম।
এক উস্তাদ এসে বললেন, বাইরের এক মহান ব্যক্তিত্ব এসেছেন। তিনি দাওরায়ে হাদীসের ক্লাসে যেতে চান।
তখন মুফতী আবুল কালাম যাকারিয়া রাহ. বলেন, তিনি বড় আলেম ঠিক। কিন্তু দারসে বসাতে হলে গাছবাড়ী হুজুরের ইজাযত লাগবে।
কারন এখানকার তালীমাতের জিম্মাদার হুজুর। তাই তাঁর অনুমতি হলে কোন সমস্যা নাই। আর বর্তমান সময়ে বরকতের জন্য হুজুরই যথেষ্ট বলে আমি মনে করি।
নাওয়ারাল্লাহু মারকাদাহুমা।
এরাই আমাদের মরদম শেনাছ আকাবির।

 

মুফতি মুতিউর রহমান লিখেন:

দরগাহ মাদ্রাসা আমাদের হৃদয়ের স্পন্দন, বুখারীর মসনদ এখানে অনেক উঁচু

সিলেটের দরগাহ মাদ্রাসা কেবল ইট-পাথরের একটি প্রতিষ্ঠান নয়। এটি হযরত শাহজালাল (রহ.) এর পদধুলিতে ধন্য, সিলেটের ঈমানদার মানুষের আবেগ ও ভালোবাসার কেন্দ্র। এই মাদ্রাসার বুখারী শরীফের মসনদে যারা বসেছেন, তারা ছিলেন এদেশের আকাশের উজ্জ্বল নক্ষত্রতুল্য বুযুর্গানে দ্বীন।
আজ শুনলাম, সেই পবিত্র মসনদে মাওলানা মামুনুল হক সাহেব বুখারী শরীফের দরস দিয়েছেন। সংবাদটি শুনে একজন সাবেক ছাত্র ও সিলেটের সন্তান হিসেবে হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে।
কেন এই ব্যথা? কাউকে ছোট করার জন্য নয়, প্রতিষ্ঠানের শান রক্ষার জন্য।

১. বুখারী শরীফের দরস — ইলমের সাথে তাকওয়া ও গ্রহণযোগ্যতার সমন্বয়

বুখারী পড়ানোর জন্য শুধু ভালো বক্তা হলেই হয় না। এমন একজন ব্যক্তিত্ব প্রয়োজন, যিনি সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে, যাকে কওমী অঙ্গনের সকল ঘরানার মুরব্বীরা এক বাক্যে শ্রদ্ধা করেন।
মাওলানা মামুনুল হক সাহেব নিঃসন্দেহে একজন প্রাঞ্জল আলোচক। কিন্তু বিগত কয়েক বছরে নানা রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত বিতর্কে জড়িয়ে তিনি নিজেই বিতর্কিত হয়ে পড়েছেন। ফলে উলামায়ে কেরামের একটা বড় অংশের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিতর্কিত কোনো ব্যক্তির মাধ্যমে বুখারীর মতো পবিত্র কিতাবের দরস — ছাত্রদের মনে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।

২. দরগাহ মাদ্রাসার পরিচয় — ইতেদাল ও সবার প্রতিষ্ঠান
দরগাহ মাদ্রাসা কোনো দিন কোনো একক রাজনৈতিক দলের ছিল না। এটি ছিল সকল মত ও পথের আলেমদের মিলনমেলা। কিন্তু ইদানীং একটি বিশেষ রাজনৈতিক বলয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাওয়াত দেওয়ায় সাধারণ ছাত্র ও মুহিব্বীনদের মনে কষ্ট তৈরি হচ্ছে। আমরা চাই না, আমাদের প্রাণের এই মারকায কোনো রাজনৈতিক ট্যাগে পরিচিত হোক।

৩. বর্তমান প্রজন্ম সব দেখে
আজকের ছাত্ররা ফেসবুক, ইউটিউবে সব দেখে। যখন তারা দেখে বুখারীর মসনদে এমন কেউ বসছেন যাকে নিয়ে প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রল ও বিতর্ক হয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের মনে উস্তাদের মাকাম নিয়ে প্রশ্ন জাগে।
আমরা মামুনুল হক সাহেবের ইলমকে অসম্মান করি না। তিনি আমাদেরই ভাই। কিন্তু দরগাহ মাদ্রাসার মতো এত উঁচু মাকামের প্রতিষ্ঠানের জন্য আরও বেশি মুত্তাকী, মুহতারাম ও সর্বজন গ্রহণযোগ্য কোনো মুরব্বীকে নির্বাচন করা উচিত ছিল।

মুহতামিম সাহেব ও শূরা কমিটির কাছে আকুল আবেদন — দয়া করে দরগাহ মাদ্রাসার ঐতিহ্য ও পবিত্রতা রক্ষা করুন। বুখারী শরীফের মসনদকে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখুন।

এই লেখা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, এই লেখা আমাদের প্রতিষ্ঠানের ইজ্জত রক্ষার পক্ষে।’

 

শেয়ার করুন

আরো খবর
Theme Customized By BreakingNews