October 27, 2026, 4:36 pm
Title :
ভ্রমণ: একখণ্ড পূর্ণিমা আর দিদার লাভের আকুলতা সিলেট কুদরত উল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকরী কমিটির অভিষেক সম্পন্ন আয়কর রিটার্নের যেসব ভুল সংশোধনের সুযোগ পাবেন জানুন সিলেটে জিডিএফ ডিকেফ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিদর্শনে এমদাদ হোসেন চৌধুরী সিলেটে সৌদী দূতাবাসের হিফযুল হাদীস প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব সম্পন্ন বিশ্ব মানবধর্ম বিকাশ পরিষদের সভাপতি নিহার রঞ্জন দেবনাথকে জিডিএফ’র সংবর্ধনা জাতীয় ইমাম সমিতির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সম্পন্ন কাজী আবু হোরাইরা সভাপতি, শাহ নজরুল মহাসচিব নির্বাচিত দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সিলেট অঞ্চলের “কালচারাল লিডারশীপ প্রোগ্রাম-২০২৬” অনুষ্ঠিত শহীদ সুলেমান স্মৃতি প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার সম্পন্ন শহীদ সুলেমান স্মৃতি প্রাথমিক ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা শুক্রবার শুরু

ভ্রমণ: একখণ্ড পূর্ণিমা আর দিদার লাভের আকুলতা

  • সিলেট রিপোর্ট ডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে— Tuesday, October 27, 2026

উবায়দুল্লাহ মাহবুব: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ রোজ সোমবার। ফজরের নামাজ আদায় করে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সবাই নিজেদের সামানপত্র গুছিয়ে নিলাম। রোদ তীব্র হওয়ার আগেই খানকায়ে হোসাইনিয়া মাসকান্দা, ময়মনসিংহ থেকে বিদায় নিয়ে নেত্রকোনার পথে যাত্রা শুরু করলাম। আমাদের গন্তব্য হাওরজনপদ মোহনগঞ্জের নগর এলাকা।

সেখানে পৌঁছাতে যোহরের সময় হয়ে গেল। আমরা সবাই বিশিষ্ট লেখক ও সাংবাদিক মাওলানা রুহুল আমীন নগরী সাহেবের বাড়িতে মেহমান হলাম। নগরীসাহেব ও তাঁর পরিবারের আন্তরিক আপ্যায়নে আমরা মুগ্ধ হলাম। তাঁদের এই ভালোবাসা ও মেহমানদারির কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। বহুদিন ধরে হাঁসের মাংস খাওয়া হয়নি। আমাদের কথা ভেবে হুজুরের পরিবার দেশি হাঁসের মাংস রান্না করলেন। ছোট ছোট শব্দ দিয়ে রান্নার প্রশংসা করে ছোট করতে চাই না। শুধু এটুকুই বলি স্বাদটা ছিল অসাধারণ। শুধু হাঁসের গোস্তই নয়, খাশি ও গরুর গোস্তের পাশাপাশি ছোট মাছ,বড় মাছের তরকারি। এছাড়া বহু আইটেমের ভর্তা,সবজি,মাসকলাই ডাল ইত্যাদি হরেক রকম আইটেম দেখে আমাদের ক্লান্তিকর অবস্থা দূর হয়ে গেলো! জুহর আদায় করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে ৪ টার দিকে আবার রওনা হলাম। এবার গন্তব্য সুনামগঞ্জে। জীবনে প্রথমবার স্পিডবোটে চড়ব, মনের ভেতর কেমন যেন এক নতুন অনুভূতি কাজ করছিল। নগর মাদানিয়া বালিকা মাদরাসা থেকে ধর্মপাশা হয়ে মধুপুরঘাটে পৌঁছে আসরের সালাত আদায় করলাম। তখন সূর্য অস্ত যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চারপাশে সন্ধ্যা নামার আয়োজন।
স্পিডবোটে বসতেই মনের ভেতর এক অদ্ভুত অনুভূতি জেগে উঠল। মনে হচ্ছিল, এই দৃশ্য, এই নদী, এই আকাশ সবকিছুর সঙ্গে যেন বহু পুরোনো কোনো আত্মিক পরিচয় রয়েছে।
নদীর পাড়ঘেঁষে ডুবে যাওয়া সূর্যের দৃশ্যটি ছিল অসাধারণ। পশ্চিম আকাশে দিনের শেষ আলো, নদীর বুকে ঢেউয়ের খেলা আর চারপাশের প্রকৃতি সব মিলিয়ে যেন এক অপার্থিব সৌন্দর্য! কংশ আর সুরমা নদীর মিলনস্থলে এই প্রথম সূর্যাস্ত দেখা সত্যিই অভূতপূর্ব দৃশ্য।
নদীর বুক চিরে উঁচু উঁচু ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তীব্র গতিতে ছুটছিল আমাদের স্পিডবোট। হঠাৎ আকাশের এক কোণে বসে থাকা চাঁদটি আমার দৃষ্টি কেড়ে নিল।
মনে হচ্ছিল, চাঁদ মামা আকাশের বুক থেকে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। যতবার তার দিকে তাকাই, ততবারই মনটা কেমন যেন ভরে ওঠে। চাঁদের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা তারাগুলোকে দেখে মনে হচ্ছিল, তারা যেন চাঁদকে ঘিরে বসে আছে যেমনিভাবে ইসলামের প্রথম যুগে সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে ঘিরে বসতেন।
চাঁদের দিকে চোখ পড়লেই প্রিয় নবী ﷺ-এর কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে শামায়েলের পাতায় পড়া তাঁর সৌন্দর্যের বর্ণনাগুলো। মনে পড়ে সেই বর্ণনাগুলো, যেখানে তাঁর চেহারার সৌন্দর্যকে পূর্ণিমার চাঁদের সৌন্দর্যের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আয়েশা (রা.) ও আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর মায়ের নামে প্রচলিত সেই বর্ণনাগুলোর কথা মনে পড়ল, যেখানে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সৌন্দর্যের সঙ্গে পূর্ণিমার চাঁদের সৌন্দর্যের তুলনা করা হয়েছে।
শামায়েলের পাতায় পড়া প্রিয় নবী ﷺ-এর দেহসৌষ্ঠব ও সৌন্দর্যের বর্ণনাগুলো একে একে চুখের সামনে ভেসে উঠতে লাগল।
আমি অপলক দৃষ্টিতে চাঁদের দিকে তাকিয়ে রইলাম। তারপর মনে মনে চাঁদকে সম্বোধন করে বললাম
ওহে পূর্ণিমার চাঁদ, তুমি আজ আমার মন কেড়ে নিয়েছ। তোমার রূপে আকাশ আজ বড়ই মোহনীয়। কিন্তু শোনো, তুমি তো আমার প্রিয় নবী থেকে সুন্দর নও, আমার রাসুল ﷺ ছিলেন তোমার চেয়েও অনেক অনেক বেশি সুন্দর।
তোমার সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে ঠিকই, কিন্তু আমার হৃদয়ের গভীরে যে মানুষটির ভালোবাসা, তিনি তো তোমার চেয়েও প্রিয়।
স্পিডবোট ছুটে চলছিল আপন গতিতে। নদীর পাড়ের গাছগুলো যখন চাঁদকে আমার থেকে আড়াল করে দিচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল, চাঁদটি যেন গাছের ডালের ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে আমাদের দেখছে।
কখনো চাঁদ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, কখনো গাছের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছিল। আর আমার চোখ বারবার সেই চাঁদকেই খুঁজে ফিরছিল।
তখন মনে একটি প্রশ্ন জাগল,
হে পূর্ণিমার চাঁদ, তুমার সুন্দর্যে যদি তুমার প্রেমে পড়ে যাই তাহলে বলো রাসুলকে পেলে আমার অবস্থা কি হত!
আমি কি এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর পবিত্র চেহারা থেকে চোখ ফেরাতে পারতাম?
চাঁদের দিকে তাকালে আমার অন্তর কেমন যেন কেঁদে ওঠে। অসহায় মনটা তৃষ্ণার্ত পথিকের মতো তৃষ্ণা নিবারণের জন্য এক ফোঁটা জলের সন্ধান করতে থাকে।
হৃদয় চায়, প্রিয় নবীর দিদার লাভ করতে। চোখ দুটি চায় তাঁর পবিত্র চেহারা দর্শনের সৌভাগ্য। মন চায়, তাঁর ভালোবাসায় আরও গভীরভাবে ডুবে যেতে।
পকেট থেকে ব্লুটুথ বের করে কানে লাগালাম। শুনতে শুরু করলাম—“ইয়ে দিল তেরে ইয়াদো ছে মেহেকতা হি রহে গা” গজলটি।
গজলের সুর, নদীর ঢেউ, সন্ধ্যার আকাশ আর পূর্ণিমার চাঁদ সবকিছু মিলে আমার মনকে কোথায় যেন নিয়ে গেল।
মনের ভেতর তখন শুধু একটি আকুলতা প্রিয় নবী ﷺ-এর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর সান্নিধ্য লাভের আকাঙ্ক্ষা এবং তাঁর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারতের স্বপ্ন।

প্রিয় রাসুলুল্লাহ আমার, চর্মচক্ষু দিয়ে আপনাকে দেখতে পারিনি, স্বপ্ন যুগে দেখা দিয়ে আমায় শান্ত করো।
বাজারের গলিতে হাঁটছিলাম, আর বারবার চোখ চলে যাচ্ছিল চাঁদের দিকে। চাঁদ যেন আমার সঙ্গী হয়ে গেছে। মানুষের ভিড়, বাজারের কোলাহল সবকিছুর মাঝেও মন পড়ে আছে সেই আকাশের কোণে।
মাবুদ গো তোমার এই অক্ষম বান্দা তোমার হাবিবের রওজা মোবারক জিয়ারত করতে চায়। তোমার প্রিয় নবীর রওজার সামনে দাড়িয়ে তার প্রতি সালাম পেশ করতে চায়।
মাবুদগো এই অদমকে কবুল করে নাও, আকুতি ফিরায়া দিওনা মাবুদ, কবুল করে নাও মাবুদ কবুল করে নাও।

[তিন দিনের সফরে ময়মনসিংহ খানকায়ে মাদানিয়া হোসাইনিয়া সফরের অংশ বিশেষ ]

✍️ উবায়দুল্লাহ মাহবুব
জামিয়া দারুল হুদা সিলেট।
২৬.১০.২০২৬

শেয়ার করুন

আরো খবর
Theme Customized By BreakingNews