সিলেট রিপোর্ট:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির দেওয়া বক্তব্যের একটি অংশ নিয়ে উদ্বেগ ও আপত্তি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি সংশ্লিষ্ট বক্তব্য পুনর্বিবেচনা করে প্রত্যাহার এবং এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) এক বিবৃতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শায়খুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এ প্রতিক্রিয়া জানান।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, ইসলামি আকিদা অনুযায়ী মহান আল্লাহ তাআলাই সমগ্র বিশ্বজগতের একমাত্র স্রষ্টা, পালনকর্তা ও রক্ষাকর্তা। তাঁদের মতে, কোনো দেব-দেবীকে সমগ্র পৃথিবীর ত্রাণকর্তা বা রক্ষাকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করা ইসলামের মৌলিক তাওহিদি বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তির বক্তব্যে এমন শব্দ বা বক্তব্য ব্যবহার করা উচিত নয়, যা মুসলিম নাগরিকদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টি করতে পারে।
তারা আরও বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের দেশ। সব ধর্মের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার পালনের অধিকার রাখেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহনশীলতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। তবে ধর্মীয় সম্প্রীতির নামে কোনো ধর্মের মৌলিক বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বক্তব্যকে গ্রহণযোগ্য করে তোলা যায় না বলে তারা মন্তব্য করেন।
বিবৃতিতে জমিয়ত নেতৃদ্বয় রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের সংশ্লিষ্ট অংশটি পুনর্বিবেচনা করে প্রত্যাহার এবং এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার অনুরোধ জানান।
তারা বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত সৃষ্টি করতে পারে—এমন বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড যেন দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী।
সংবাদ: Ukkab News