
অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির দাবি; মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুর বন্ধে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
দেশের বিভিন্ন স্থানে নৈতিক স্খলন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কওমি মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর এবং শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্টের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি বলেছে, কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে তার দায় একান্তই ব্যক্তির। এর সঙ্গে পুরো একটি শিক্ষা ব্যবস্থা কিংবা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানকে জড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, একটি মহল মব সৃষ্টির পাঁয়তারা করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অপচেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। মসজিদ-মাদ্রাসায় কোনো চরিত্রহীন ব্যক্তির স্থান হতে পারে না। কারও বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনি বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির মানহানি হয়, এমন কর্মকাণ্ড থেকেও সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় মজলিসে আমেলার অধিবেশনে নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন।
কেন্দ্রীয় সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর পরিচালনায় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা শেখ মুজিবুর রহমান, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া,মাওলানা তাফাজ্জুল হক আজিজ,মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী, মাওলানা লোকমান মাযহারী, মাওলানা মতিউর রহমান, মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী, মাওলানা জামিল আনসারী, মুফতি জাবের কাসেমী, মাওলানা তৈয়বুর রহমান চৌধুরী, মুফতি ইবাদুর রহমান কাসেমী, মাওলানা নুর আহমদ কাসেমী, মুফতি গোলাম মাওলা, মাওলানা রুহুল আমীন নগরী, মাওলানা এখলাসুর রহমান রিয়াদ ও মাওলানা হোযাইফা ইবনে ওমর, রিদওয়ান মাজহারী প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কোনো মাদ্রাসার শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ থাকলে আইনানুগ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু অভিযোগের অজুহাতে কোনো মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর, শিক্ষার্থীদের আতঙ্কিত করা কিংবা প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
তারা আরও বলেন, কওমি মাদ্রাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঢালাওভাবে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করা এবং হামলার পরিবেশ সৃষ্টি করা গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে। তাই কোনো ঘটনার ক্ষেত্রে আবেগ, গুজব কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার ওপর নির্ভর না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করে বলেন, জমিয়ত কোনো অপরাধীর পক্ষাবলম্বন করে না। অপরাধী যে-ই হোক, তার পরিচয় কিংবা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বিবেচনা না করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে নিরপরাধ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠানের ওপর অন্যায়ভাবে অপরাধের দায় চাপিয়ে দেওয়া এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, অভিযোগের নামে দেশের কোনো মাদ্রাসায় যাতে হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধীর বিচার চাই, কিন্তু কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস কিংবা একটি বৃহৎ শিক্ষা ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।