August 11, 2026, 6:17 pm

সিলেটে পাঁচ বোন রেস্টুরেন্টে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, মালিকসহ দুজন আহত

  • সিলেট রিপোর্ট ডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে— Friday, September 1, 2023

ষ্টাফ রিপোর্টার
সিলেট নগরের টিলাগড় এমসি কলেজের সামনে অবস্থিত পাঁচ বোন রেস্টুরেন্টে হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংঘটিত এ ঘটনায় রেস্টুরেন্টের মালিক তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও আমির নামে অপর একজন আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। হামলায় রেস্টুরেন্টটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালিক।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, একদল ব্যক্তি হঠাৎ রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় রেস্টুরেন্টের কাচ, চেয়ার-টেবিল, ফ্রিজ, ক্যাশ কাউন্টার, রান্নাঘরের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর করা হয়। বাধা দিতে গেলে রেস্টুরেন্টের মালিক তাজুল ইসলাম চৌধুরী, আমির এবং এক কর্মচারীকে মারধর করা হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

রেস্টুরেন্টের মালিক তাজুল ইসলাম চৌধুরী অভিযোগ করেন, ঘটনার দুই দিন আগে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি তার রেস্টুরেন্টে এসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করার জন্য চাপ দেন। তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় তার চাচা সজীব রহমান, কাউন্সিলর আজাদ রহমানসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত ছিলেন। তার দাবি, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়াই ছিল উদ্দেশ্য।

তাজুল ইসলাম চৌধুরী দাবি করেন, হামলার ঘটনায় রেস্টুরেন্টের প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

এদিকে, কাউন্সিলর আজাদ রহমান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না; খবর পেয়ে পরে ঘটনাস্থলে যান। তার দাবি, স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল যে রেস্টুরেন্টে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ড চলছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই স্থানীয় কিছু মানুষ মারধরের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। এতে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে তিনি দাবি করেন।

একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন সজীব রহমান। তিনি বলেন, ঘটনার সময় তিনিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না; পরে সেখানে যান। তিনি দাবি করেন, আগে থেকেই তিনি স্থানীয়দের কাছ থেকে তার ভাইয়ের ছেলে তাজুল ইসলাম ও আমিরের বিরুদ্ধে অসামাজিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ সম্পর্কে অবগত ছিলেন। তার ভাষ্য, স্থানীয়দের ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে এবং এতে তার কোনো ভূমিকা নেই। তাজুল ইসলাম চৌধুরীর আনা অভিযোগ তিনি প্রত্যাখ্যান করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, আলামত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ ধরনের সহিংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় মামলা হয় নি। অভিযোগে যাদের নাম এসেছে, তাদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ বা কারা দায়ী, সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

শেয়ার করুন

আরো খবর
Theme Customized By BreakingNews