September 24, 2026, 1:21 am
Title :
বিশ্বসভার সভাপতি আমাদের ড. খলিলুর রহমান (পর্ব-১) গাজায় ভয়াবহ দুর্ভোগে যুক্তরাজ্য নীরব থাকবে না: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী আমার পিএইচডির সাবজেক্ট ঠিক করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী: শিক্ষামন্ত্রী দেশের মর্যাদাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন সিলেটে এআই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করার ঘোষণা বাণিজ্যমন্ত্রীর তাহিরপুরে তিন সন্তানসহ বাবার কীটনাশক পান, তিন শিশুর মৃত্যু শাহজালাল (র.) মাজারের টাকা প্রতিদিন গণনা করা হবে গুলশানের নতুন ডিসি নেত্রকোনার সন্তান রুহুল কবীর খান পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান নেত্রকোনা জেলার উলামায়ে কেরাম ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

বিশ্বসভার সভাপতি আমাদের ড. খলিলুর রহমান (পর্ব-১)

  • সিলেট রিপোর্ট ডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে— Wednesday, September 23, 2026

জাতিসংঘের অধিবেশন কক্ষ থেকে রশীদ আহমদ:

বিশ্বব্যবস্থার ইতিহাসে কিছু কিছু মুহূর্ত আসে, যখন কোনো দেশের আন্তর্জাতিক পরিচয় শুধু তার নিজস্ব ভূখণ্ড, জনসংখ্যা বা অর্থনৈতিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে সেই দেশ বৃহত্তর বিশ্বপরিসরে নিজের অবস্থান ও অভিজ্ঞতাকে তুলে ধরার সুযোগ পায়। ২০২৬ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচিত হওয়া সেই ধরনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

ড.খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরু। আস্থা পুনর্গঠন ও বিশ্বব্যবস্থার নতুন চ্যালেঞ্জ।
২ জুন ২০২৬ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। গোপন ব্যালটে তিনি ৯৯ ভোট পান এবং সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস কাকুরিস পান ৯১ ভোট; মোট ১৯০টি ব্যালট পড়ে।
United Nations +1
৮১তম অধিবেশন ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুরু হয়েছে এবং তাঁর সভাপতির মেয়াদ এক বছর।
United Nations +1
অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য: “Restoring Trust, Managing Transformation: A United Nations That Delivers for All”।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তিনি ৮১তম সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কের উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। জাতিসংঘ তাঁর বক্তব্যের মূল প্রশ্ন হিসেবে উদ্ধৃত করেছে: “Outside these walls, people are not asking whether the United Nations still exists. They are asking whether it works.”
United Nations
৮ সেপ্টেম্বরের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, তাঁর সভাপতিত্বে জাতিসংঘকে “Fit for the Future” করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে এবং নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, শিল্পখাত, উদ্ভাবন ও একাডেমিয়ার অংশগ্রহণ বাড়ানোর কথা বলেন।
United Nations
সাধারণ পরিষদে ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্র রয়েছে এবং প্রত্যেকের একটি ভোট রয়েছে।

জাতিসংঘের চলতি সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের কূটনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়; শান্তি, উন্নয়ন, জলবায়ু, মানবাধিকার, প্রযুক্তি ও জাতিসংঘ সংস্কার নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা।

২ জুন ২০২৬ জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমান ১৯০টি বৈধ ভোটের মধ্যে ৯৯ ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস কাকুরিসকে পরাজিত করে ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। এ অধিবেশনের সভাপতির পদ এশিয়া-প্যাসিফিক আঞ্চলিক গোষ্ঠীর জন্য নির্ধারিত ছিল। তাঁর এক বছরের মেয়াদ ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে।

এই নির্বাচনকে শুধু একজন বাংলাদেশির একটি আন্তর্জাতিক পদে অধিষ্ঠিত হওয়া হিসেবে দেখলে এর প্রাতিষ্ঠানিক তাৎপর্যের একটি অংশ বাদ পড়ে যায়। কারণ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ হলো ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী সর্বজনীন ফোরাম, যেখানে প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্রের একটি করে ভোট রয়েছে। সাধারণ পরিষদের সভাপতি কোনো একটি দেশের পক্ষে সভা পরিচালনা করেন না; তাঁর দায়িত্ব হলো সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনা, সমঝোতা ও কার্যকর প্রক্রিয়া পরিচালনায় সভাপতিত্ব করা এবং সাধারণ পরিষদের কাজকে এগিয়ে নেওয়া। ফলে বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান যখন এই আসনে বসেন, তখন তিনি একই সঙ্গে বাংলাদেশের একজন শীর্ষ কূটনৈতিক প্রতিনিধি হিসেবে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসেন এবং সভাপতি হিসেবে ১৯৩ সদস্যরাষ্ট্রের বৃহত্তর সমষ্টিগত স্বার্থের প্রতি দায়বদ্ধ থাকেন।

বাংলাদেশের জন্য এর তাৎপর্য কোথায়?
বাংলাদেশের ইতিহাসের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ক স্বাধীনতার পর থেকেই গভীর। উন্নয়ন, শান্তিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ, অভিবাসন, শরণার্থী সংকট এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘের কার্যক্রমে অংশ নিয়ে আসছে।
বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত। ড. খলিলুর রহমান তাঁর নির্বাচনের পর দেওয়া বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দুই লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী জাতিসংঘের শান্তি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে অবদান রেখেছেন। এই অভিজ্ঞতাকেই তিনি শান্তিরক্ষা, শান্তি প্রতিষ্ঠা, সংঘাত প্রতিরোধ এবং বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার ক্ষেত্রে তাঁর সভাপতিত্বের একটি ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।
অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব এখানে শুধু একটি জাতীয় পরিচয়ের বিষয় নয়; এর সঙ্গে বাংলাদেশের কয়েক দশকের বহুপাক্ষিক কূটনীতি ও জাতিসংঘের বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও যুক্ত।
ড. খলিলুর রহমান: কূটনীতি থেকে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সাধারণ ফোরামের সভাপতিত্বে
ড. খলিলুর রহমানের এই দায়িত্বের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাঁর দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। জাতিসংঘের অফিসিয়াল জীবনী অনুযায়ী, তিনি ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সার্ভিসে যোগ দেন। পরবর্তীতে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের জাতিসংঘ মিশনে কাজ করেন এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কমিটিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি স্বল্পোন্নত দেশগুলোর গোষ্ঠীর মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এরপর ১৯৯১ সালে তিনি জাতিসংঘের সঙ্গে সরাসরি কাজ শুরু করেন এবং জেনেভায় UNCTAD-এ বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘের বিভিন্ন পর্যায়ে নিউইয়র্ক ও জেনেভায় দীর্ঘ সময় কাজ করার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, অর্থনীতি, উন্নয়ন ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ওপর তাঁর অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। পরে তিনি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চ প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন এবং ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
সুতরাং সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে তাঁর উপস্থিতিকে তাঁর দীর্ঘ কূটনৈতিক ও বহুপাক্ষিক কর্মজীবনের ধারাবাহিকতার মধ্যেও দেখা যায়।
“বাংলাদেশের প্রতিনিধি” এবং “সাধারণ পরিষদের সভাপতি”— দুটি ভূমিকার পার্থক্য
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে পরিষ্কার করা দরকার।
ড. খলিলুর রহমান বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং একই সঙ্গে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি। কিন্তু সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা কেবল বাংলাদেশের জাতীয় অবস্থান উপস্থাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
বরং সভাপতির প্রধান দায়িত্ব হলো সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করা, বিভিন্ন রাষ্ট্রের বক্তব্য ও আলোচনার সুযোগ নিশ্চিত করা, আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সমঝোতার ক্ষেত্র তৈরি করা।

ড. খলিলুর রহমান তাঁর নির্বাচনী বক্তব্যে এ কারণেই বলেছিলেন যে তিনি সব সদস্যরাষ্ট্রের সভাপতি হিসেবে কাজ করবেন এবং মতপার্থক্য উপেক্ষা না করে অভিন্ন ক্ষেত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন। তিনি আস্থা পুনর্গঠন, ঐকমত্য তৈরি এবং সদিচ্ছাপূর্ণ আলোচনার জন্য সুযোগ সৃষ্টিকে তাঁর কাজের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
এই পার্থক্যটি বোঝা জরুরি। কারণ জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের সভাপতিত্ব যেমন বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পরিচয়ের বিষয়, তেমনি সভাপতির দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁকে ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের বৈচিত্র্যময় স্বার্থ ও মতামতের মধ্যস্থতাকারী প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা পালন করতে হয়।
৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য: “আস্থা পুনর্গঠন, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা”

 

শেয়ার করুন

আরো খবর
Theme Customized By BreakingNews