ডেস্ক রিপোর্ট
:ভারতের দিল্লিতে পুলিশের ধরপাকড়ের মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। রোববার (১১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় আবারও যন্তর মন্তরের উদ্দেশে বিক্ষোভ মিছিল করার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।
ভারতের বিতর্কিত ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে রাজধানী নয়াদিল্লিতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও ধরপাকড়ের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠে গোটা ভারত। গতকাল প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই দিল্লির বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। এ সময় আন্দোলনকে দমন করতে ইন্টারনেট শাটডাউন, মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং রেল চলাচল সীমিত করাসহ কঠোর পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। এর প্রতিবাদে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলন করায় বিরোধী দলের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, ছাত্রনেতা ও অধিকারকর্মীসহ ৭ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল সকাল থেকে শুরু হওয়া এই পুলিশি অভিযানে দেশজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের ওপর হামলা এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর (প্রাথমিক তথ্য বিবরণী) দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
শীর্ষ বিরোধী নেতাদের গণগ্রেপ্তার : বিক্ষোভ মিছিলে যোগ দেওয়ার সময় এবং তার আগে থেকেই দিল্লির বিভিন্ন স্থান থেকে দেশের প্রবীণ রাজনৈতিক নেতাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আম আদমি পার্টির (আপ) জাতীয় আহ্বায়ক ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার বিধানসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপক, সৌরভ দাস এবং অন্যান্য আইনজীবী ও রাজনৈতিক ব্যক্তি। এছাড়া প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া অনেক তরুণ শিক্ষার্থী, বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী এবং জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি ও বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকেও আটকের খবর পাওয়া গেছে। আটককৃতদের বেশিরভাগকেই ছত্রশাল স্টেডিয়াম এবং মন্দির মার্গ থানাসহ বিভিন্ন অস্থায়ী আটক কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। এদিকে, ঐতিহাসিক বাংলা সাহিব গুরুদ্বারের নিকটবর্তী একটি পার্ক থেকে আটক হয়েছেন উত্তরপ্রদেশের সাবেক বিজেপি বিধায়ক বিক্রম সিংয়ের কন্যা যশস্বিনী রাজে সিং। পুলিশের দমনপীড়নের মুখেও থেমে থাকেনি তরুণদের প্রতিবাদ। মুম্বাই থেকে নয়াদিল্লিতে অবতরণ করা এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটের ভেতরেই সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ও তার সহকর্মীদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। অভিজিৎ তার ইনস্টাগ্রাম চ্যানেলে লাইভ ভিডিও শেয়ার করে বলেন, “আমি গ্রেপ্তার হতে এসেছি, আমি তোমাদের ভয় পাই না।” পরে বিমানের ভেতরেই তিনি সহযাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি জাতি কোন দিকে যাচ্ছে, দিল্লি পুলিশ প্লেনে ঢুকে আমাদের গ্রেপ্তার করতে চাইছে, এটি স্পষ্ট একনায়কতন্ত্র।” অভিজিৎ দীপক ছাড়াও আটক হয়েছেন ধ্রুব রাঠী, অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) নেত্রী নেহা বোরা, সিপিআই(এম-এল) সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ, রাজনীতিবিদ যোগেন্দ্র যাদব। এমনকি প্রতিবাদ কাভার করতে যাওয়া অনেক সাংবাদিককেও আটক করে পুলিশি বাসে তোলা হয়।
সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। জনসমাগম ও সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের অজুহাতে দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার দিল্লি পুলিশ এবং আধা সামরিক বাহিনী (সিএপিএফ) মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা এলাকাকে একটি দুর্গে পরিণত করার পাশাপাশি জায়গায় জায়গায় বসানো হয়েছে ব্যারিকেড ও স্পাইক স্ট্রিপ। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, বিক্ষোভকারী, সাধারণ মানুষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরে একসঙ্গে এক হাজারের বেশি মানুষের সমাবেশ করার অনুমতি নেই বলেও জানানো হয়েছে। বিক্ষোভ প্রতিহত করতে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী গুরুগ্রাম এলাকায় প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে প্রবেশের প্রধান পথগুলো ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দেওয়া হয়। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে দিল্লির অন্তত ৪৫টি মেট্রো স্টেশন সাময়িক বন্ধ রাখা হয় এবং বহু ট্রেনের চলাচল সীমিত করা হয়। পাশাপাশি বেশ কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবাও স্থগিত রাখা হয়। দিল্লির এই পরিস্থিতিকে ‘জরুরি অবস্থার চেয়েও ভয়াবহ’ ও ‘কালো জরুরি অবস্থা’ বলে অভিহিত করেছে আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেসসহ বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট।
দেশে-বিদেশে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার মুখে মোদি সরকার : দিল্লিতে বিক্ষোভের সময় ব্যাপক ভিত্তিক গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তর (ইউএন হিউম্যান রাইটস)। সংস্থাটি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে যে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে সম্পূর্ণ সম্মান ও সুরক্ষা দিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানায়, ‘দিল্লিতে পূর্বনির্ধারিত ও চলমান বিশাল বিক্ষোভের আগে এবং চলাকালে আন্দোলনকারী, বিক্ষোভের প্রধান নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের নির্বিচারে গণগ্রেফতার করা হয়েছেÑএমন খবরে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ জাতিসংঘের এই সংস্থাটি আরও বলেছে, গণতান্ত্রিক সমাজে নাগরিক সমাজের কণ্ঠস্বর রোধ করা বা শান্তিপূর্ণ জমায়েতে বাধা দেওয়া মানবাধিকারের পরিপন্থী। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অবিলম্বে শান্তিপূর্ণভাবে মতপ্রকাশ ও সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এর মাধ্যমে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দেশে একটি ‘ভয়ের পরিবেশ’ তৈরি করছে। আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ার প্রধান আকার প্যাটেল বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ কর্তৃক বিরোধীদলীয় নেতা, ছাত্র ইউনিয়নের নেতা, সাংবাদিক এবং আইনজীবীসহ ৫ হাজারের বেশি মানুষকে আটকের ঘটনা প্রমাণ করে যে সরকার সমালোচনামূলক কণ্ঠস্বরগুলোকে স্তব্ধ করার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাদের কেবল মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার প্রয়োগ করার কারণে আটক করা হয়েছে, কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে তাদের মুক্তি দিতে হবে।’ একই সঙ্গে সরকার যাতে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করে এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার রক্ষা ও নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সে আহ্বানও জানান তিনি।
আটকের প্রতিবাদ: দলটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাস এবং ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীসহ কয়েকজনকে আটকের প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন নিয়ে অভিযোগ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে বিক্ষোভকারীরা।
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা: দলটির নেতা অজিঙ্ক শিন্ডে জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, সোমবার (১২ অক্টোবর) কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’রও বিক্ষোভ কর্মসূচি রয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড়ের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর। তবে জাতিসংঘের এই উদ্বেগকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি।
জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) জানিয়েছে, দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে ও চলাকালে বিক্ষোভকারী, আন্দোলনের নেতা, নাগরিক সমাজের সদস্য, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের আটক করার খবরে তারা উদ্বিগ্ন।
দপ্তরটি ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি, যাঁদের বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে, তাঁদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জেনেভায় জাতিসংঘে ভারতের স্থায়ী মিশন এক বিবৃতিতে বলেছে, দেশটির সংবিধানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার স্বীকৃত। শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও মুক্ত গণমাধ্যম এ অধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে।
ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে এই অধিকারের ওপর যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপ করা যেতে পারে। কর্তৃপক্ষ আইন মেনেই কাজ করেছে এবং অভিযোগের প্রতিকার চাওয়ার জন্য আদালত উন্মুক্ত রয়েছে।
ভারত আরও বলেছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের উদ্বেগ ‘ভিত্তিহীন’ এবং তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’। দপ্তরটিকে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের বড় বিক্ষোভের প্রতিও সমান মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।
ককরোচ জনতা পার্টি ও অন্যান্য আন্দোলনকারীরা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
১০ অক্টোবর দিল্লিতে বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করার খবর প্রকাশিত হয়। ঘটনাটি নিয়ে জাতিসংঘ ও ভারতের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করার কয়েক ঘণ্টা পর ছেড়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানী দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার সময় তাঁদের আটক করা হয়েছিল।
কেজরিওয়ালকে মুক্তি: দিল্লির জাফরপুর কালান থানা থেকে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তিনি পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় পুলিশের হেফাজতে ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুক্তি: দীর্ঘ সময় আটক থাকার পর মমতা ও তাঁর দলের কয়েকজন নেতাকেও মুক্তি দেওয়া হয়।
বিক্ষোভের কারণ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন বিরোধী নেতারা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশের আটকপ্রক্রিয়া ও আচরণের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানাতে যাওয়ার সময় তাঁদের জোর করে পুলিশ ভ্যানে তোলা হয় এবং বিভিন্ন থানায় ঘোরানো হয়। তিনি এই অভিজ্ঞতাকে অত্যন্ত হয়রানিমূলক বলে বর্ণনা করেন।
এদিকে, দিল্লি পুলিশ সাত হাজারের বেশি আটক ব্যক্তিকে মুক্তি দিয়েছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে। তবে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা তখনও পুলিশের হেফাজতে ছিলেন।