
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
সিলেট নগরীর উপশহর সি-ব্লক এলাকায় মোফাজ্জল চৌধুরী মুর্শেদ নামে এক ছাত্রদল নেতার ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে উপশহর সি-ব্লকের সামনের গাড়ি স্ট্যান্ডের কাছে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত মুর্শেদ বর্তমানে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, ঘটনার সময় মুর্শেদ বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে রিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে এসে তাকে ঘিরে ধরেন। পরিবারের দাবি, হামলাকারীদের মধ্যে রুহেল, সজীব ও তুহিন নামের তিনজন ছিলেন। তারা স্থানীয়ভাবে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি নাজমুলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বলে পরিবার জানিয়েছে। তাদের সঙ্গে আরও তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, দা, চাকু, চাপাতি ও লোহার রড ব্যবহার করে মুর্শেদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে তার বাম হাত, ডান হাত, ডান পা, বাম উরু ও পিঠের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়। একপর্যায়ে লোহার রড দিয়ে আঘাত করায় তার বাম হাত ভেঙে যায় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। হামলার সময় তিনি আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে মাটিতে পড়ে যান বলে তাদের দেওয়া বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মুর্শেদ গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাকে আঘাত করা হয়। পরে হামলাকারীরা তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে দ্রুত চলে যান। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরিবারের সদস্যরা জানান, তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
মুর্শেদ সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক। পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রদলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এবং অতীতেও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কারণে হামলার শিকার হয়েছিলেন। অতীতেও রাজনৈতিক মিছিলে তিনি হামলার শিকার হয়েছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের আশঙ্কা, অতীত রাজনৈতিক বিরোধের জের ধরেই মুর্শেদকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের মদদপুষ্ট ছাত্রলীগের ক্যাডাররা কীভাবে একজন ছাত্রদল নেতার ওপর এমন সশস্ত্র হামলা চালানোর সাহস পেল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এদিকে, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।