October 18, 2026, 5:08 am
Title :
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে গ্যাস-বিদ্যুৎ গ্রাহক কল্যাণ পরিষদের শুভেচ্ছা হলি আর্ট যুব উন্নয়ন সংস্থার এসএসসি ও দাখিল শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অর্থোপেডিক্স গবেষণায় সাফল্য : শাবিপ্রবি থেকে এমফিল পেলেন ডা. আলমাহির ফেরদৌস ভারতের অভ্যন্তরে গুলিবিদ্ধ কানাইঘাটের যুবকের লাশ উদ্ধার ককটেল বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনায় জামায়াতের কুমিল্লা মহানগর কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে সিলেটে যে কারনে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির হুঁশিয়ারি দুর্গাপূজা উপলক্ষে দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরামের শুভেচ্ছা আকাবিরের আদর্শ ও আমাদের রাজনীতির পর্যালোচনা মক্কায় মসজিদে ‘অনৈতিক কাজের’ দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সিলেটে জিডিএফ’র প্রতিষ্ঠাতা মরহুম রজব আলী খানের ৫৪তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল

অর্থোপেডিক্স গবেষণায় সাফল্য : শাবিপ্রবি থেকে এমফিল পেলেন ডা. আলমাহির ফেরদৌস

  • সিলেট রিপোর্ট ডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে— Saturday, October 17, 2026

সিলেট রিপোর্ট :

হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার ভিত্তিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) থেকে Master of Philosophy (MPhil) ডিগ্রি অর্জন করেছেন চিকিৎসক ও গবেষক ডা. মো. আলমাহির ফেরদৌস। গত ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় তাঁর এমফিল ডিগ্রি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত হয়।

তিনি শাবিপ্রবির School of Life Sciences-এর Department of Genetic Engineering and Biotechnology থেকে এ ডিগ্রি অর্জন করেন। তাঁর গবেষণার শিরোনাম ছিল “Synovial Fluid Features in Relation to Knee Osteoarthritis Severity in Bangladesh”। গবেষণাটি বাংলাদেশের হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীদের সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের বৈশিষ্ট্য এবং রোগটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জৈবিক পরিবর্তন নিয়ে পরিচালিত হয়।

গবেষণায় তাঁর তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন শাবিপ্রবির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. মো. ফারুক মিয়া এবং সহ-তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন একই বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

গবেষণাটিতে চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ২২০ জন রোগীর সাইনোভিয়াল ফ্লুইড বিশ্লেষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ছিল ২৫ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে। তাঁদের মধ্যে ১১৭ জন নারী ও ১০৩ জন পুরুষ ছিলেন।

গবেষণায় সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের ভৌত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি শ্বেত রক্তকণিকা (WBC), নিউট্রোফিল, লিম্ফোসাইট, প্রোটিন, গ্লুকোজ ও লিপিডের মাত্রাসহ বিভিন্ন কোষীয় ও জৈবরাসায়নিক উপাদান পরীক্ষা করা হয়। পাশাপাশি জীবাণুর উপস্থিতি শনাক্তে অণুজীববিষয়ক পরীক্ষাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

গবেষণার ফলাফলে রোগীদের বয়স, লিঙ্গ ও ডায়াবেটিসের অবস্থার সঙ্গে সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের বিভিন্ন প্রদাহজনিত ও জৈবরাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিস রোগীদের মধ্যে নিউট্রোফিল-প্রধান প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে বেশি পাওয়া যায়। অন্যদিকে বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের প্রোটিনের মাত্রাসহ বেশ কিছু জৈবিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তনও দেখা যায়।

গবেষণায় Principal Component Analysis (PCA) পদ্ধতি ব্যবহার করে সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের একাধিক জৈব-সূচক সমন্বিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক ধারা উঠে আসে। এর একটি মূলত কোষীয় প্রদাহের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে শ্বেত রক্তকণিকা এবং নিউট্রোফিল-লিম্ফোসাইটের ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অপরটি রোগীদের বয়স ও সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের প্রোটিনের মাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রথম দুটি প্রধান উপাদান সম্মিলিতভাবে গবেষণার তথ্যের মোট বৈচিত্র্যের প্রায় ৬৪ দশমিক ৯ শতাংশ ব্যাখ্যা করতে সক্ষম হয়।

গবেষণার উপসংহারে বলা হয়, হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে সাইনোভিয়াল ফ্লুইড বিশ্লেষণ রোগটির জৈবিক বৈচিত্র্য এবং রোগীভেদে প্রদাহজনিত পরিবর্তন বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে বয়স, লিঙ্গ ও বিপাকীয় সহ-রোগ—বিশেষ করে ডায়াবেটিস—বিবেচনায় রেখে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে দীর্ঘমেয়াদি অনুসরণভিত্তিক, আণবিক, জিনোমিক ও প্রোটিওমিক গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

ডা. মো. আলমাহির ফেরদৌস চিকিৎসাবিজ্ঞানে MBBS ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি অর্থোপেডিক্স ও পুনর্জননমূলক চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চতর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। তাঁর পেশাগত ও উচ্চতর যোগ্যতার মধ্যে রয়েছে PGDip in Orthopaedics (UK), Fellowship in Stem Cell & Regenerative Medicine (India) এবং FRSPH (UK)। তিনি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সংগঠন International Society for Stem Cell Research (ISSCR)-এর সদস্য। চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাড়-জোড় ও মাংসপেশিজনিত রোগ, পুনর্বাসন এবং পুনর্জননমূলক চিকিৎসা নিয়ে কাজ ও গবেষণার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

শিক্ষা ও চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট পরিবারে বেড়ে ওঠা ডা. মো. আলমাহির ফেরদৌসের বাবা প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস একজন অবসরপ্রাপ্ত মেডিসিন অধ্যাপক এবং মা ফৌজিয়া সুলতানা লোদি একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। তাঁর এ অর্জনে পরিবার, শিক্ষক, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এমফিল ডিগ্রি অর্জনের পর ডা. মো. আলমাহির ফেরদৌস তাঁর গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউড বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র হিসেবে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর প্রত্যাশা, বাংলাদেশি রোগীদের নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ ধরনের গবেষণা ভবিষ্যতে হাঁটুর অস্টিওআর্থ্রাইটিসের রোগগত বৈশিষ্ট্য আরও ভালোভাবে বোঝা, রোগ নির্ণয় এবং রোগীভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনায় নতুন গবেষণার পথ উন্মুক্ত করবে।

শেয়ার করুন

আরো খবর
Theme Customized By BreakingNews