September 1, 2026, 10:26 am
Title :
বিএনপির গৌরব ঐতিহ্য সংগ্রাম ও সাফল্যের ৪৮ বছর আজ সৌদিতে বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা ‘আমাদের বাঁচান ভাই’- স্পেনে মৃত্যুর আগে বাংলাদেশি তরুণের আর্তনাদ জাতীয় সুন্নী ওলামা মাশায়েখ পরিষদের আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত বৃহত্তর সিলেট গণদাবী পরিষদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পায়তারা বন্ধ, অসহনিয় লোডশেডিং বন্ধ না হলে করুন পরিণতি ভোগ করতে হবে— গ্যাস-বিদ্যুৎ গ্রাহক কল্যাণ পরিষদ নিউইয়র্কে জেএসডির মতবিনিময় সভা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে সমঝোতা ফেঞ্চুগঞ্জে সুয়েবুননেছা আইডিয়াল একাডেমি’র সিরাত আলোচনা ও মিলাদ মাহফিল সম্পন্ন বি-বাড়ীয়া গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন এনসিপির নেতারা

বিএনপির গৌরব ঐতিহ্য সংগ্রাম ও সাফল্যের ৪৮ বছর আজ

  • সিলেট রিপোর্ট ডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে— Monday, August 31, 2026

॥ এডভোকেট আল আসলাম মুমিন ॥

বিএনপির প্রতিষ্ঠার পটভূমি, আদর্শ, ১৯ দফা, ৩১ দফা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আজ পর্যন্ত দলটি বাংলাদেশের রাজনীতির নানা বাঁক, সংকট, আন্দোলন, নির্বাচন, রাষ্ট্র পরিচালনা ও গণতন্ত্রের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছে। যে সময়ই দেশ এবং জাতি গভীর সংকটে পড়েছে ঠিক সেই মুহুর্ত্বে বিএনপি দেশকে রক্ষা করতে ঢাল হয়ে দাড়িয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের চেতনা এবং জনগণের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তির প্রত্যয়কে ধারণ করে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির রাজনৈতিক অভিযাত্রা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠার পটভূমি : ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও সমাজজীবনে সৃষ্টি হয় অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তা। এমন এক পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, অর্থনীতি ও জাতীয় রাজনীতিকে নতুনভাবে বিন্যস্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, জাতীয় ঐক্য, বহুদলীয় গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, উৎপাদন বৃদ্ধি, জনগণের অংশগ্রহণ এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সুরক্ষা।
দল-মত-পেশা ও শ্রেণির বিভাজন অতিক্রম করে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী শক্তিকে একটি বৃহত্তর জাতীয় রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে ঐক্যবদ্ধ করার প্রয়াস থেকেই বিএনপির জন্ম।
১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮- এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা : ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা।
বিএনপির প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ ভিত্তিক একটি নতুন রাজনৈতিক ধারার প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বকে সামনে রেখে বিএনপি অল্প সময়ের মধ্যেই একটি বিস্তৃত গণভিত্তিক রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত হয়।
বিএনপির আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন : বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে-
বহুদলীয় গণতন্ত্র, জনগণের মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, জাতীয় ঐক্য ও সংহতি।
এই দর্শনে রাষ্ট্রের উন্নয়নকে কেবল অবকাঠামোগত অগ্রগতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জনগণের জীবনমান, অর্থনৈতিক সক্ষমতা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও ১৯ দফা কর্মসূচি : বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯ দফা কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল ও রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রচিন্তা ও উন্নয়ন দর্শনের সঙ্গে ১৯ দফা কর্মসূচি গভীরভাবে সম্পর্কিত। এর মূল লক্ষ্য ছিল জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করা, উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, গ্রামীণ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জনগণের অংশগ্রহণ এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করা।
১৯ দফা কর্মসূচির মূল বিষয়সমূহ : ১৯ দফার মূল দর্শন ছিল- দেশ, জনগণ, উৎপাদন, স্বনির্ভরতা ও জাতীয় ঐক্যকে কেন্দ্র করে একটি উন্নত ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ নির্মাণ।
প্রতিষ্ঠাতা হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায় : বিএনপির ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক অধ্যায়গুলোর একটি হলো প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যু।
১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামে এক সামরিক অভ্যুত্থানের ঘটনায় তিনি নিহত হন। প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই দলের প্রতিষ্ঠাতাকে হারানো বিএনপির জন্য ছিল এক গভীর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক আঘাত। কিন্তু শোক ও সংকটকে অতিক্রম করে বিএনপির নেতাকর্মীরা সংগঠনকে ধরে রাখেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি নতুন সাংগঠনিক শক্তি ও গণভিত্তি অর্জন করেন।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও গণতন্ত্রের সংগ্রাম : আশির দশকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবিতে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, বিএনপি সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে এবং দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত হয়।
১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। একই সময়ে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় বিএনপি : বিএনপি বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছে। বিশেষ করে ১৯৯১-১৯৯৬ এবং ২০০১-২০০৬ এবং ১৫ই জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্বল্প মেয়াদে দলটি সরকার পরিচালনা করে।
এই সময় শিক্ষা, যোগাযোগ, অবকাঠামো, কৃষি, নারীর শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনীতি ও বেসরকারি খাতের বিকাশে বিভিন্ন নীতিগত ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মেয়েদের শিক্ষার প্রসার, উপবৃত্তি ও শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন উদ্যোগ বাংলাদেশের সামাজিক উন্নয়নের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ স্থান লাভ করে।
দীর্ঘ সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার পথ : ২০০৭ সালের পর থেকে বিএনপি দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে রয়েছে। এই সময়ে দলটি রাজনৈতিক আন্দোলন, নির্বাচন, মামলা,হামলা জেল জুলুম গ্রেফতার, কারাবাস গুম খুন এবং নানা সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
বিশেষ করে গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে গণতন্ত্র, নির্বাচন, ভোটাধিকার, আইনের শাসন ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আআন্দোলনে সর্ব ছিলো রাজপথে।
দীর্ঘ প্রতিকূলতার মধ্যেও দলটির নেতাকর্মীরা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেছেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তারেক রহমান।
৩১ দফা-রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের নতুন রাজনৈতিক রূপরেখা : বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক চিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল হলো ৩১ দফা রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার পরিকল্পনা।
এই ৩১ দফার মূল লক্ষ্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করা, সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা, জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।
৩১ দফার প্রধান রাজনৈতিক ভাবনা : ৩১ দফার রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রীয় ভাবনা হলো- রাষ্ট্রক্ষমতা জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক করা এবং রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও সুশাসনের ভিত্তিতে পুনর্গঠন করা।
১৯ দফা থেকে ৩১ দফা- এক দীর্ঘ রাজনৈতিক দর্শনের ধারাবাহিকতা : বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে ১৯ দফা ও ৩১ দফাকে দুটি ভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রণীত কর্মসূচি হিসেবে দেখা যায়।
১৯ দফা-তে গুরুত্ব পেয়েছিল উৎপাদন, কৃষি, স্বনির্ভরতা, কর্মসংস্থান, জাতীয় ঐক্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন।
অন্যদিকে ৩১ দফা-তে গুরুত্ব পেয়েছে রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, আইনের শাসন, মানবাধিকার, জবাবদিহি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও সুশাসন। অর্থাৎ সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে রাজনৈতিক বাস্তবতার পরিবর্তন ঘটলেও বিএনপির রাজনৈতিক বক্তব্যে জাতীয় স্বার্থ, জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা-এই বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে রয়েছে। বিএনপির ১৯ দফা ও রাষ্ট্র কাটামো মেরামতের ৩১ দফা বিএনপিকে আরো জনবান্ধব দল হিসাবে প্রতিষ্টা করে।
৪৮ বছরের অভিযাত্রা : ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬-প্রায় ৪৮ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিযাত্রা বিএনপির জন্য অর্জন, সংগ্রাম, ত্যাগ, সংকট ও রাজনৈতিক পরীক্ষার এক বিস্তৃত ইতিহাস।
এই দীর্ঘ সময়ে দলটি কখনো রাষ্ট্রক্ষমতায়, কখনো বিরোধী দলের আসনে, আবার কখনো রাজপথের আন্দোলনে থেকেছে।
প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন থেকে বেগম খালেদা জিয়া ও তারেজ জিয়ার নেতৃত্ব এবং পরবর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়- প্রতিটি অধ্যায়েই বিএনপি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করেছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ইতিহাস কেবল একটি রাজনৈতিক দলের ইতিহাস নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, রাষ্ট্র পরিচালনা, আন্দোলন, সংকট, ত্যাগ ও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক অভিযাত্রারও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর যে রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে তা প্রায় পাঁচ দশকের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের আপামোর গনমানুষের ভোটে বিএনপির বর্তমানে দেশ পরিচালনা করছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের কবলে দেশ ছিলো। দেশে আইন ছিলো আইনের শাসন ছিলো না। গনতন্ত্রের পরিবর্তে একদলী শাসন ছিলো। মানবাধিকার চরম ভাবে লংগিত হয়েছিলো।
দেশ যখন চরম দেউলিয়াত্বের পথে ঠিক সেই মুহুর্ত্বে বিএনপি দেশ পরিচালনা করছে। এখন সামনে বিএনপির যে চ্যালেঞ্জ তা মোকাবিলা করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ এবং জাতির এক আলোকবর্তিকা স্বরুপ আবির্ভাব হয়েছেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা কর্মসূচি থেকে শুরু করে বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কার পরিকল্পনা- দুটি ভিন্ন সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রণীত হলেও উভয়ের মধ্যেই জনগণ, রাষ্ট্র, জাতীয় স্বার্থ, উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকারের প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
ইতিহাসের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে, চ্যালেঞ্জের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে, পরিবর্তিত হয়েছে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রয়োজনও। জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, জনগণের অধিকার, সুশাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন অগ্রগতি বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ অংগিকার।।
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস, ১৯ দফার উন্নয়ন-দর্শন এবং ৩১ দফার রাষ্ট্রসংস্কারের প্রত্যয়কে ধারণ করে বিএনপির রাজনৈতিক অভিযাত্রা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও রাজনৈতিক বিকাশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকবে।

বাংলাদেশ জিন্দাবাদ
গণতন্ত্র জিন্দাবাদ।

লেখক : এডভোকেট আল আসলাম মুমিন, সাংগঠনিক সম্পাদক- বিএনপি সিলেট জেলা শাখা।

শেয়ার করুন

আরো খবর
Theme Customized By BreakingNews