মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী
সাংবাদিক, লেখক ও সম্পাদক

মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী একজন লেখক, সাংবাদিক ও সম্পাদক। তাঁর প্রকাশিত পরিচিতি অনুযায়ী, তাঁর পিতার নাম মরহুম আব্দুর রাজ্জাক আমীর। সিলেটের মাটি ও মানুষের সাথে গভীর সম্পর্ক। দীর্ঘ তিন দশক যাবত সিলেটে অবস্থান। লেখাপড়া, রাজনীতি, কর্মক্ষেত্রে সিলেটই তার চলাফেরা।
তাঁর পৈতৃক নিবাস নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার ২ নং বড়তলী-বানিয়াহারি ইউনিয়নের নগর গ্রামে।
জন্ম ও পারিবারিক জীবন
তাঁর জন্মতারিখ নিয়ে দুটি তথ্য পাওয়া যায়। পারিবারিক/পিতার হাতের লেখা তথ্য অনুযায়ী তাঁর জন্ম ২০ জুলাই ১৯৮০। অন্যদিকে সার্টিফিকেট অনুযায়ী জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৮৮। তাই নির্ভরযোগ্যভাবে কোন তারিখটি চূড়ান্ত—তা নিশ্চিত করার জন্য প্রাথমিক নথি প্রয়োজন।
তিনি ২০০৯ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁর প্রকাশিত পরিচিতিতে দুই মেয়ে ও দুই ছেলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
শিক্ষাজীবন
তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু মসজিদের মক্তবে। এরপর স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি কওমি ও আলিয়া মাদরাসায় শিক্ষা গ্রহণ করেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী তিনি ২০০৪ সালে দাখিল, ২০০৬ সালে আলিম এবং একই বছরে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন।
লেখালেখির সূচনা
রুহুল আমীন নগরীর লেখালেখির সূচনা ঘটে অল্প বয়সেই। তাঁর নিজের প্রকাশিত পরিচিতিতে বলা হয়েছে, ১৯৯৬ সালে তাঁর প্রথম লেখা তৌহিদী পরিক্রমা ও মুসলিম জাহান-এ প্রকাশিত হয়।
এরপর তিনি ধর্ম, সমাজ, ইতিহাস, সাহিত্য ও সমসাময়িক নানা বিষয়ে লেখালেখি ও সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন।
সাংবাদিকতা
সাংবাদিকতা জীবনে তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করেছেন। তাঁর পরিচিতিতে দৈনিক আলোকিত সিলেট ও দৈনিক সিলেট সুরমা-এর সাবেক স্টাফ রিপোর্টার এবং সাপ্তাহিক মুসলিম জাহান ও সাপ্তাহিক ঢাকা পোস্ট-এর সিলেট প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার তথ্য রয়েছে।
বর্তমানে/প্রকাশিত পরিচিতি অনুযায়ী তিনি সিলেট রিপোর্ট-এর সম্পাদক। ২০২৪ সালের একটি সংবাদ প্রতিবেদনেও তাঁকে “মাওলানা রুহুল আমীন নগরী, সম্পাদক—সিলেট রিপোর্ট” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাহিত্য ও সংগঠন
সাহিত্য ও সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন লেখক-সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে—
আল কলম গবেষণা পরিষদ বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা প্রচার সম্পাদক;
জালালাবাদ লেখক ফোরাম সিলেটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক;
মাদানী কাফেলা বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও আজীবন সভাপতি;
কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেটের জীবন সদস্য;
বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরামের সদস্য;
জাতীয় লেখক পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক;
নেত্রকোনা ইসলামী লেখক-সাংবাদিক ফোরামের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত।
পুরোনো একটি প্রতিবেদনে তাঁকে সিলেটের একটি লেখক-সাংবাদিক সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
মাদরাসা প্রতিষ্ঠা
২০০৯ সালে নিজ বাড়ীতে মাদানী প্রভাতী স্কুল নামে যাত্রা করে। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালে নগর মাদানিয়া বালিকা মাদরাসা নামে শুরু হয়েছে। যার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক।
২০১৪ জামিয়া মাদানিয়া নগর চারপাড়া মাদরাসার মুহতামিম হন। বর্তমানে উপদেষ্টা / সদরুল মুহতামিম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া গাজীপুর জামিয়া খানকায়ে বাশারিয়ার ম্যানেজিং কমিটির অর্থসম্পাদক এবং খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
আধ্যাত্মিকতা
খলিফায়ে মাদানী আল্লামা আব্দুল মোমিন শায়খে ইমামবাড়ী (র) এর নিকট ২০০৭ সালে মুরিদ বা বায়াত হন। ইমামবাড়ী হুজুরে ইন্তেকালের পরে আল্লামা আবুল বাশার পীরছাহেব শাহতলী রহ এর নিকট বায়াত হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই খেলাফত প্রাপ্ত হন।
শাহতলীর পীরছাহেবের অধর্শত খলিফার মধ্যে মাওলানা রুহুল আমীন নগরী বিশ্বাস ভাজন একজন। মাওলানা আব্দুর রহিম ইসলামাবাদী পীরসাহেব সোয়াবিল,ফটিকছড়ি সাহেবও তাকে খেলাফত দিয়েছেন।
প্রকাশনা ও গ্রন্থ
তাঁর প্রকাশিত পরিচিতিতে বহু গ্রন্থ, স্মারক ও সাময়িকীর নাম রয়েছে। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—
এদারার অতীত-বর্তমান
ঐক্যের প্রতীক খতিব উবায়দুল হক রহ.
সংগ্রামী নেতা মাওলানা আশরাফ আলী বিশ্বনাথী রহ.
খোদাদ্রোহী আইন
জমিয়তের অতীত-বর্তমান
আকাবিরে জমিয়ত
জাফরী ষড়যন্ত্র
মোহনগঞ্জের আলোকিত ব্যক্তিত্ব
মুর্শিদে কামিল আব্দুল মোমিন শায়খে ইমামবাড়ী
জাগো মুসলিম জাগো
শাহ সুলতান কমর উদ্দীন রুমি রহ.
মোমেনশাহীর ডাক
মাদানী কাফেলা
আল আসাদ
জাগরণ
ঘোষণা
প্রতিরোধ
টিপাই লংমার্চ
স্মৃতি
আর্তনাদ—মুহিউদ্দীন খান স্মরণে
একনজরে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ
এসো তরুণ উক্বাবের ছায়াতলে
আমার মোহনগঞ্জ
নেত্রকোনা এক্সপ্রেস
ত্রৈমাসিক শাহ সুলতান পত্রিকা
আল বাশার।
প্রথম মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৮ হাজার ভোট,পরের মেয়াদে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে ১২ হাজার ভোট পেয়েছিলেন।
ধর্মীয় ও সামাজিক অঙ্গনে ভূমিকা
রুহুল আমীন নগরী ধর্মীয় লেখালেখি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত। ২০২৪ সালের একটি প্রতিবেদ নে তাঁকে সিলেটের খতমে নবুওয়াত সংরক্ষণ কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ধর্ম উপদেষ্টার সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিদের একজন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান পরিচয়
প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর পরিচয়ের প্রধান দিকগুলো হলো—নেত্রকোণা জেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাহী সদস্য।
ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া মোহনগঞ্জ এর প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক।
মুহাম্মদ রুহুল আমীন নগরী
সাংবাদিক
লেখক
সম্পাদক
সিলেট রিপোর্ট-এর সম্পাদক,
সংগঠক বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত
পারিবারিক জীবনে তিনি ২ ছেলে ও ২ কন্যাসন্তানের জনক। ২০১৯ সালে তিনি পবিত্র ওমরা পালন করেন।