August 18, 2026, 5:52 am
Title :
আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেট মহানগরীর মতবিনিময় অনুষ্ঠিত আগামী সংসদ অধিবেশনে কাদিয়ানী ইস্যুতে বিল উত্থাপনের দাবি উবায়দুল্লাহ ফারুকের বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, ফ্রান্সের সভাপতি হলেন শাহ সুহেল রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ইসিতে মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছে তিনটি যুব জমিয়তের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সম্পন্ন: ইসহাক কামাল সভাপতি, চৌধুরী নাসির সেক্রেটারি ইউরোপ জমিয়তের সীরাতুন্নবী সম্মেলন অনুষ্ঠিত রাত ৮টার মধ্যে শপিংমল-মার্কেট বন্ধের সিদ্ধান্ত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ সিলেটের জনজীবন সিলেটে নিজ বাসা থেকে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার মার্কিন রণতরীতে ব্যাপক সংঘর্ষ, ৭ সেনা নিহত

আগামী সংসদ অধিবেশনে কাদিয়ানী ইস্যুতে বিল উত্থাপনের দাবি উবায়দুল্লাহ ফারুকের

  • সিলেট রিপোর্ট ডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে— Saturday, August 15, 2026

সিলেট রিপোর্ট: হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন, খতমে নবুওয়ত ইসলামের অন্যতম মৌলিক আক্বিদা। হযরত মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসের অংসংখ্য স্পষ্ট দলিলে প্রমাণিত যে, তাঁর পর নবুয়াতের পবিত্র দরজা কিয়ামত পর্যন্ত চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। সুতরাং মির্জা গোলামমম আহমদ কাদিয়ানী বা অন্য কাউকে নবী হিসেবে বিশ্বাস করা স্পষ্ট কুফরি। যারা খাতমে নবুওয়াতের মৌলিক আক্বিদা অস্বীকার করবে তারা সরাসরি কাফের।
আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, বিশ্বের বহু মুসলিম দেশ এবং ওআইসি যেভাবে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করেছে, তেমনি জাতিয় সংসদে আইন পাস করে কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম সংখ্যালঘু হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। এটিই এ দেশের উলামা-মাশায়েখ ও কোটি কোটি তাওহিদী জনতার মূল দাবি। সরলমনা মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে রচিত কাদিয়ানীদের যাবতীয় বই-পুস্তক, লিটারেচার, ওয়েবসাইট ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত ও নিষিদ্ধ করতে হবে।

আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে কাদিয়ানীদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা ও তাদের যাবতীয় প্রকাশনাসমূহ বাজেয়াপ্ত করার দাবিতে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতে নবুওয়ত বাংলাদেশ আয়োজিত জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা শাহ মুুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এসব কথা বলেন।
সংগঠনের সভাপতি মাওলানা শায়েখ সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে লিখিত বক্তব্য রাখেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ।
সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা কেফায়াতুল্লাহ আজহারী, মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম কাসেমী ও মাওলানা এনামুল হক মুসার সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন,বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক,
জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি শায়খুল হাদীস
মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই, হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক মাওলানা খলিল আহমাদ কুরাইশী, প্রিন্সিপাল মিজানুর রহমান চৌধুরী পীর সাহেব দেওনা, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাওলানা আব্দুল আউয়াল নারায়ণগঞ্জ, মুফতি জসিম উদ্দীন হাটহাজারী, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ সাদী, মাওলানা একরাম হোসাইন পটিয়া, মুফতি কিফায়াতুল্লাহ আটহাজারী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মুফতি উবায়দুল্লাহ, মাওলানা মামুনুল হক, ড. আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ এমপি, মুফতি মুবারকুল্লাহ বি বাড়িয়া, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আব্দুল বাসিত খান, মুফতি বশীরুল্লাহ, মাওলানা শাব্বির আহমাদ রশিদ, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মাওলানা আবদুস সাত্তার বৃহত্তর উত্তরা জোন,মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সোবহানী, মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা মনির হোসাইন কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা বাহাউদ্দিন যাকারিয়া, মাওলানা জহুরুল ইসলাম, মাওলানা আনাস ভোলা, মাওলানা শওকত হোসেন সরকার, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মাসউদুল করীম, মাওলানা মীর ইদ্রিস,মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, মাওলানা আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব আবদুল মালেক বলেন, কাদিয়ানীরা মুসলমানদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা এদেশের দুশমন। তাদের এই প্রতারণ বন্ধ করা সরকারের দায়িত্ব। পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশে সেই ঘোষণা দিতে অসুবিধা কোথায়? সরকার যদি মুসলমানদের পালস না বুঝে তারা পদে পদে বিপদে পড়বে।

সভাপতির বক্তব্যে সাজিদুর রহমান সবাইকে আন্তরিক মোবারকবাদ ও কৃতজ্ঞা জানিয়ে বলেন, খতমে নবুওয়তের ঈমানী দায়িত্ব পালনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আগামী দিনে ঘোষিত সকল কর্মসূচিতে সর্বস্তরের তাওহিদী জনতার স্বতঃস্ফূর্ত ও ব্যাপক অংশগ্রহণের আহবান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন ঈমানী চেতনা ও দায়িত্ববোধ থেকে সবাই এ কর্মসূচি পালনে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখবেন।

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি শায়খুল হাদীস
মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক বিরোধী দলকে সংসদে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে বিল উত্থাপনের আহবান জানিয়ে বলেন, তার পরেও কাজ না হলে সংসদ ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দিন। আমরা সম্মিলিত ভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ময়দানে সক্রিয় থেকে দাবি আদায় করবো ইনশাআল্লাহ।

কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবি বাস্তবায়নে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এমপি।
তিনি বলেছেন, আমি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করছি—আমাদের প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল ও সর্বশেষ নবী। তার পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোনো নবীর আগমন ঘটবে না। এটি ইসলামের অন্যতম মৌলিক আকিদা এবং প্রতিটি মুমিন-মুসলমানের ঈমানের অপরিহার্য ভিত্তি।
তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশ আয়োজিত জাতীয় উলামা মাশায়েখ সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। কাদিয়ানিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ধর্মমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তার পাঠানো লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, তাহাফফুজে খতমে নবুওয়তের মহাসচিব মাওলানা মুহিউদ্দিন রাব্বানী।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আজকের এই সম্মেলনের চেতনা কেবল উলামায়ে কেরামের নয়; বরং তা প্রতিটি তাওহীদী মুসলমানের ঈমানি চেতনা। আকিদা-ই-খতমে নবুওয়তের সাথে আমি পূর্ণ একমত পোষণ করছি।

তিনি বলেন, আজকের এই সম্মেলন থেকে উলামায়ে মাশায়েখের পক্ষ হতে সরকারের কাছে যেসকল যৌক্তিক ও ঈমানি দাবি উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে আমি ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থেকে এবং ব্যক্তিগত অবস্থান থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাব, ইনশাআল্লাহ।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ইসলামি মূল্যবোধসম্পন্ন ও উলামায়ে কেরামের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উলামায়ে কেরামের প্রতি যথেষ্ট আন্তরিক। সরকার আপনাদের এই গুরুত্বপূর্ণ ও ঈমানি দাবিগুলো বিশেষ বিবেচনায় নিবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।

ধর্মমন্ত্রী লিখিত বক্তব্যে বলেন, কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা ও তাদের যাবতীয় প্রকাশনা বাজেয়াপ্ত করার দাবিতে আন্তর্জাতিক মজলিসে তাহাফফুজে খতমে নবুওয়ত বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত আজকের এই ঐতিহাসিক ‘জাতীয় উলামা-মশায়েখ সম্মেলনে’ স্বশরীরে উপস্থিত থাকার তীব্র ইচ্ছা আমার ছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে ডাক্তারদের পরামর্শে আমি সরাসরি উপস্থিত হতে পারিনি।@ তবে অন্তরের আকুলতা ও ঈমানি তাগিদ থেকে আমার লিখিত বক্তব্য ও বার্তা আপনাদের সম্মুখে প্রেরণ করছি। এই মহতি আয়োজনে আমাকে সম্পৃক্ত করার জন্য আয়োজকবৃন্দকে আন্তরিক মুবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, আজকের এই সম্মেলন আমার জন্য অত্যন্ত আবেগের। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামের এই মোবারক কাফেলায় যুক্ত হতে পেরে মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে লাখো কোটি শুকর আদায় করছি—আলহামদুলিল্লাহ। আপনাদের এই পবিত্র মজলিস থেকে আমার সুস্থতার জন্য খাস দোয়ার আরজ রাখছি।

শেয়ার করুন

আরো খবর
Theme Customized By BreakingNews