October 30, 2026, 3:41 pm
Title :
শুক্রবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বরুনারপীরের ইসলাহী মাহফিল সফলের আহবান যুক্তরাজ্যস্থ দিরাইবাসীর উদ্যোগে বিবিসিসিআই লন্ডন রিজিয়নের চেয়ারম্যানে সম্মানে প্রীতিভোজ ও মতবিনিময় সভা পর্তুগালে বিশ্বনাথ এসোসিয়েশনের ১৮১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন সিলেটে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ সিলেট বিভাগীয় জমিয়তের দায়িত্বশীলদের মতবিনিময় সভা জাগপা সিলেট জেলা ও মহানগরের মতবিনিময় সভায় রাশেদ প্রধান ১৪ ও ১৫ নভেম্বর সিলেট আলিয়া মাঠে খতমে নবুওয়ত সম্মেলন সফলের আহবান সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশ অবজ্ঞা, মব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আইজিপির বক্তব্যে দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরামের উদ্বেগ ভ্রমণ: একখণ্ড পূর্ণিমা আর দিদার লাভের আকুলতা সিলেট কুদরত উল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির কার্যকরী কমিটির অভিষেক সম্পন্ন

কুরআন শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে কাজ করবে সরকার -মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • সিলেট রিপোর্ট ডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে— Friday, October 9, 2026

ঢাকা অফিস:

প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পুরস্কৃত কোরআন হাফেজ ও শিক্ষার্থীদের সম্মানিত করার পাশাপাশি কুরআন শিক্ষা ও চর্চাকে আরও উৎসাহিত করতে সরকার কাজ করবে । ৮অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কুরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী প্রতিযোগীগণ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রেসিডেন্টেরর প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানায়। প্রেসিডেন্টবলেন, বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে এমন সাফল্য অর্জন জাতির জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের বিষয়।তিনি বিজয়ী প্রতিযোগী, তাঁদের শিক্ষক-উস্তাদ, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকলকে এ বিরল অর্জনের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এসময় তিনি ধর্মচর্চা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সক্রিয় ও সমৃদ্ধ রাখতে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দেশে ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার এবং হাফেজ-আলেমদের যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকারও অঙ্গীকারবদ্ধ। সাক্ষাৎকালে বিজয়ী প্রতিযোগীরা তাদের অভিভাবক ও শিক্ষক-উস্তাদগণকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। মাদরাসা-মক্তবসহ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মেধাবী শিক্ষার্থী, হাফেজ ও আলেমগণকে সম্মানিত করা হলে মানুষ কুরআন চর্চা ও ধর্মীয় শিক্ষায় আরো উৎসাহ পাবে উল্লেখ করে তাঁরা এ বিষয়ে সরকারকে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করেন। তারা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনা হাফেজদেরকে যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান। প্রেসিডেন্ট বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ এবং অধিকাংশ মানুষ মুসলিম। এ দেশের মানুষ অতীতেও নিজেদের ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আজ নতুন এক অভিযাত্রায় প্রবেশ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ও মানোন্নয়নে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করে যাবে। কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মাওলানা মো. বিল্লাল হোসেনের নেতৃত্বে বিজয়ীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারী তানযীমুল উম্মাহ গার্লস হিফয মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান এবং ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জনকারী মারকাযুল মদীনা মাদরাসার শিক্ষার্থী দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হাফেজ শেখ মো. মাহমুদুল হাসান (আশরাফী) ও সাউদা বিনতে জামআ’হ রা. আন্তর্জাতিক বালিকা মাদরাসার শিক্ষার্থী হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ। সাক্ষাৎকালে সংশ্লিষ্ট বিজয়ী প্রতিযোগীদের অভিভাবক, উস্তাদ ও কুরআন শিক্ষা মিশন, বাংলাদেশের পরিচালকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গভবনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট বিজয়ী হাফেজদেরকে প্রেসিডেন্ট ক্রেস্ট ও তাঁদের পরিবারের সদস্য ও উস্তাদদের সৌজন্য উপহার প্রদান করেন। সাক্ষাৎকালে প্রেসিডেন্টের সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ স্বীকৃতি এবং মর্যাদা নিশ্চিত ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহ্য ও গৌরব সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। বঙ্গভবনে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল প্রেসিডেন্টের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্টের প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগ ও অবদান জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। তাদের সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণœ রাখা এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ তালিকা প্রণয়ন ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল ও সতর্ক থাকতে হবে যাতে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি না হয়। তিনি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন দাবি ও কল্যাণসংক্রান্ত বিষয় প্রেসিডেন্টের কাছে তুলে ধরা হয়। এসময় তারা বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরি, নিজস্ব বয়ানে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস, আদর্শ ও চেতনাকে বিকৃত এবং রাজনীতিকে দূষিত করার অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের নিজস্ব উদ্যোগে একটি শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের কথা বলেন। প্রেসিডেন্ট তাদের বক্তব্য শোনেন এবং মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ ও মর্যাদা রক্ষায় উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেজর সৈয়দ মুনিবুর রহমান (অব.),সদস্য-সচিব সাদেক আহমেদ খান, সদস্য-সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আবুল বাশার, সদস্য-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিরাজুল হক, সদস্য-অর্থ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. মনসুর আলী সরকার, সদস্য-কল্যাণ ও সেবা সম্পাদক অনিল বরণ রায়, সদস্য-ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আলহাজ্ব মো. নুরুল ইসলাম, সদস্য-ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির, সদস্য-দপ্তর সম্পাদক প্রকৌশলী জাকারিয়া আহমদ, ঢাকা মহানগর ইউনিট কমান্ডের আহ্বায়ক মো. নুরুল বাসার এবং সদস্য-সচিব মিজানুর রহমান খান (বীর প্রতীক)-সহ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ উপস্থিত ছিলেন। এসময় প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

আরো খবর
Theme Customized By BreakingNews