September 22, 2026, 11:44 pm
Title :
পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান নেত্রকোনা জেলার উলামায়ে কেরাম ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা সিলেটের জিডিএফ ডিকেফ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে মুসলিম চ্যারিটি ইউকে’র নেতৃবৃন্দকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান ব্যাটারি চালিত রিকশার রোড পারমিট ও ১০ দফা দাবিতে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনে স্মারকলিপি পেশ জাতিসংঘে বাংলাদেশ নিয়ে ড. ইউনূসের উচ্ছ্বাস প্রকাশ জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে নিউইয়র্ক এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে দেশের মানুষ চরম ক্ষুব্ধ— দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরাম ফেঞ্চুগঞ্জের নবাগত ইউএনও’র সাথে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ৩৫ জনের কাফেলা সহ জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশনে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাশে ওরা কারা?

নেত্রকোনা জেলার উলামায়ে কেরাম ও প্রাসঙ্গিক কিছু কথা

  • সিলেট রিপোর্ট ডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে— Tuesday, September 22, 2026

 

নেত্রকোনা জেলা ঐতিহ্যগতভাবেই আলেম-উলামা, মাদ্রাসা, মসজিদ ও দ্বীনি শিক্ষার এক সমৃদ্ধ জনপদ। এ জেলার বহু আলেম তাঁদের ইলম, আমল, দাওয়াত, শিক্ষা ও সামাজিক খেদমতের মাধ্যমে শুধু নেত্রকোনাতেই নয়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও বিশেষ পরিচিতি অর্জন করেছেন। তাঁদের কেউ আজ দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, আবার অনেকে এখনো দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন।
এই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় অতীত ও বর্তমানের কয়েকজন বিশিষ্ট আলেম, তাঁদের প্রতিষ্ঠিত বা পরিচালিত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান এবং জেলার সামগ্রিক দ্বীনি পরিবেশ সম্পর্কে কিছু কথা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। এটি কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয়; বরং শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও আত্মসমালোচনার একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস।
মরহুম মুরুব্বী আলেমদের স্মরণ
নেত্রকোনা জেলার যেসব মরহুম আলেম তাঁদের কর্ম ও অবদানের মাধ্যমে জেলার সীমানা ছাড়িয়ে সারা দেশে সুনাম অর্জন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে মাওলানা মনজুরুল হক, মাওলানা রঈস উদ্দিন আকন্দ, মাওলানা মো. হোসাইন, মুবাল্লিগ মাওলানা হাফিজ উদ্দিন হুজুর, মাওলানা মোহাম্মদ ফজলুল হক, মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা হুসাইন আহমদ সেহলা, মাওলানা মিসবাহুজ্জামান সুতারপুরী, মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা আব্দুল আজিজ লক্ষ্মীপুরী, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি মাওলানা আবু ইউসুফ, মাওলানা আব্দুল খালেক, মুফতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল আজিজ, উপাধ্যক্ষ এন. আকন্দ কামিল মাদ্রাসা এবং মাওলানা তাহের উদ্দিন দুর্গাপুর প্রমুখ বিশেষভাবে স্মরণীয়।
নেত্রকোনা সদর, দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, বারহাট্টা, মোহনগঞ্জ, মদন, কেন্দুয়া, পূর্বধলাসহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে আরও বহু আলেম তাঁদের জীবন ও কর্মের মাধ্যমে দ্বীনি পরিবেশ গড়ে গেছেন। তাঁদের অবদান আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
আল্লাহ তাআলা তাঁদের সবাইকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। আমিন।
বর্তমান সময়ের প্রবীণ ও বিশিষ্ট আলেমগণ
বর্তমানে জীবিত আলেমদের মধ্যে মাওলানা মো. আজিজুর রহমানের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি এন. আকন্দ কামিল মাদ্রাসা, নেত্রকোনার সাবেক অধ্যক্ষ এবং আলিয়া ও কওমি—উভয় ধারার শিক্ষাঙ্গনে পরিচিত একজন আলেম। পাকিস্তানের প্রখ্যাত আলেম মাওলানা বিন্নূরী ও আহমদ আলী লাহুরী রহ.-এর কাছে তিনি ইলম অর্জন করেছেন বলে পরিচিত। দীর্ঘদিন নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিবের দায়িত্বও পালন করেছেন। তাঁর অসংখ্য ছাত্র-শাগরেদ দেশের বিভিন্ন স্থানে দ্বীনি খেদমতে নিয়োজিত রয়েছেন।
জানজাইল শহীদিয়া মাদ্রাসা, দুর্গাপুরের মুহতামিম মাওলানা জিয়াউদ্দিন একজন দক্ষ প্রশাসক ও শিক্ষানুরাগী আলেম হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য ছাত্র ও হাফেজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে আছেন। আধ্যাত্মিক অঙ্গনেও তাঁর একটি পরিচিতি রয়েছে।
মাওলানা তাহের কাসেমী, সাবেক মুহতামিম—জামিয়ায়ে মিফতাহুল উলুম, নেত্রকোনা—দীর্ঘদিন কিশোরগঞ্জের জামেয়া এমদাদিয়ায় প্রধান মুফতির দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে একাধিক মাদ্রাসার মুহতামিম ও পরিচালক হিসেবে দ্বীনি শিক্ষার খেদমত করে যাচ্ছেন।
জামিয়ায়ে মিফতাহুল উলুম, নেত্রকোনার মুহতামিম মাওলানা মো. আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জেলার অন্যতম প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। মেখল ও হাটহাজারীর শিক্ষাঙ্গনে তাঁর ছাত্রজীবনের সময় অতিবাহিত হয়েছে।
এন. আকন্দ কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা মুফতি মোহাম্মদ আব্দুল মতিন একই সঙ্গে নেত্রকোনা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন। মুহাদ্দিস, ফকিহ, কামিল ও এমএসহ বিভিন্ন শিক্ষাগত যোগ্যতার সমন্বয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও ধর্মীয় খেদমতে নিয়োজিত।
তরুণ প্রজন্মের আলেমদের অবদান
নেত্রকোনা জেলার বর্তমান প্রজন্মের আলেমদের মধ্যেও অনেকে দ্বীনি শিক্ষা, সাংবাদিকতা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও সমাজসেবায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। তাঁদের মধ্যে মোহনগঞ্জের মাওলানা রুহুল আমীন নগরী একজন তরুণ আলেম ও সংগঠক হিসেবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি মোহনগঞ্জে জামিয়া মাদানিয়া নগর চারপাড়া মাদরাসা এবং নগর মাদানিয়া বালিকা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক। দ্বীনি শিক্ষার প্রসার ও নতুন প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রমে তিনি সম্পৃক্ত রয়েছেন।
এছাড়া তিনি ইত্তেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া, মোহনগঞ্জ-এর প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে কওমি মাদ্রাসাগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রমেও ভূমিকা পালন করছেন। আলেম-উলামা ও দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও তাঁর সাংগঠনিক তৎপরতা রয়েছে।
দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তাঁর সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে তরুণ আলেমদের মধ্যে যারা একই সঙ্গে শিক্ষা, সংগঠন, সাংবাদিকতা ও সমাজসেবায় কাজ করছেন, মাওলানা রুহুল আমীন নগরী তাঁদের একজন হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
বিভিন্ন অঞ্চলে দ্বীনি প্রতিষ্ঠান ও আলেমদের অবদান
মালনী মাদ্রাসা, নেত্রকোনার প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিম মাওলানা মো. আব্দুল কাইয়ুমের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি ক্রমবর্ধমানভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ছাত্রসংখ্যা, শিক্ষার পরিধি ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকেও প্রতিষ্ঠানটির বিস্তার ঘটছে। তিনি একজন ইসলামী বক্তা হিসেবেও পরিচিত।
মাওলানা সিরাজুল ইসলাম একজন শায়খ ও পীর হিসেবে পরিচিত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি নিজস্ব ভূমি ও ভবনে দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত পরিচালিত হচ্ছে। জেলার পূর্বাঞ্চলে দ্বীনি শিক্ষার বিস্তারে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
মাওলানা মো. নুরুল আমিন খান পারলা মাদ্রাসা, সদর, নেত্রকোনার মুহতামিম। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শিক্ষার্থীদের ইলমের আলোয় গড়ে তোলার পাশাপাশি সদর উপজেলা জামে মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন। প্রবীণ আলেমদের মধ্যেও তিনি একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি।
মাওলানা আস আদুর রহমান আকন্দ জামিয়ায়ে মিফতাহুল উলুম, নেত্রকোনার সাবেক মুহতামিম। তিনি দেশ-বিদেশের প্রখ্যাত উস্তাদদের কাছে ইলম অর্জন করেছেন। মরহুম মাওলানা রঈস উদ্দিন আকন্দের সন্তান এবং মরহুম মাওলানা ফয়জুর রহমান রহ.-এর উত্তরসূরি হিসেবে তিনি পারিবারিক দ্বীনি ঐতিহ্য বহন করছেন। তাঁর হাতে গড়ে ওঠা নেত্রকোনা তাহজিবুল বানাত মহিলা মাদ্রাসা জেলার উল্লেখযোগ্য নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
নাগড়া আল-মদিনা কমপ্লেক্সের পরিচালক হাফেজ মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ ছেলেদের ও মেয়েদের জন্য পৃথক মাদ্রাসা, দাওরায়ে হাদিস পর্যন্ত শিক্ষা এবং বৃহৎ হিফজখানা পরিচালনা করছেন। আল-মদিনা হজ কাফেলার মাধ্যমেও বহু মানুষ হজ ও ওমরাহ পালনে সহযোগিতা পেয়েছেন।
মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ ঢাকায় কর্মরত থাকার পরও নিজ উদ্যোগে নেত্রকোনায় নিজস্ব ভূমিতে একটি বৃহৎ কওমি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। মাওলানা আজিজুর রহমানের সন্তান হিসেবে কামিল, দাওরায়ে হাদিস ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে তিনি কওমি শিক্ষার খেদমতে আত্মনিয়োগ করেছেন।
হাফেজ মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন নেত্রকোনা ও জেলার বাইরে পরিচিত একজন আলেম। একাধিক হিফজখানা পরিচালনার পাশাপাশি তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন। তাঁর উদ্যোগে আয়োজিত বার্ষিক ইসলামী সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আলেম-উলামা অংশগ্রহণ করেন এবং জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়ে ধর্মীয় আলোচনা শোনেন।
আমাদের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন—ঐক্য
এত বিপুলসংখ্যক যোগ্য আলেম, মুহতামিম, মুহাদ্দিস, শিক্ষক ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও আমাদের একটি বড় দুর্বলতা হলো—আমরা অনেক ক্ষেত্রে বিভক্ত ও বিচ্ছিন্ন। বিভিন্ন মত, পথ, প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে পারস্পরিক দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।
আমাদের পূর্বসূরি মুরুব্বী আলেমদের দিকে তাকালে দেখা যায়, তাঁরা নিজেদের মত ও প্রতিষ্ঠানের স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেও পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতেন। দ্বীনের বৃহত্তর স্বার্থে একে অপরের অবদানকে স্বীকার করতেন। আজকের প্রজন্মের জন্য তাঁদের জীবন থেকে এই শিক্ষাটিই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
বর্তমান সময়ের অনেক গণ্যমান্য আলেমও পারস্পরিক ঐক্যের জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাঁদের বক্তব্য ও আচরণেও সংযম ও পরিমিতিবোধ লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাঁদের কিছু ভক্ত, অনুসারী ও সাগরেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ, কটূক্তি ও বিভাজনমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেন। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এ ধরনের প্রবণতা আমাদের সামগ্রিক দ্বীনি পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
মুরুব্বী আলেমদের উচিত নিজ নিজ অনুসারীদের পারস্পরিক সম্মান, শিষ্টাচার ও সংযমের শিক্ষা দেওয়া। একইভাবে অনুসারীদেরও মনে রাখতে হবে—কোনো আলেমের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে অন্য কোনো আলেমকে হেয় করা ইসলামী ভ্রাতৃত্বের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
রাজনৈতিক বা দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দ্বীনের বৃহত্তর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া এখন সময়ের দাবি। আলেমদের পারস্পরিক সম্পর্ক যত দৃঢ় হবে, মসজিদ-মাদ্রাসা, দাওয়াত ও দ্বীনি শিক্ষার কাজও তত বেশি সুন্দরভাবে এগিয়ে যাবে।
শেষকথা
এখানে যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁরা নেত্রকোনা জেলার দ্বীনি অঙ্গনের সামগ্রিক চিত্রের একটি ক্ষুদ্র অংশমাত্র। অসংখ্য আলেম, শিক্ষক, হাফেজ, মুহতামিম, ইমাম, খতিব ও মুবাল্লিগ নীরবে দ্বীনের খেদমত করে যাচ্ছেন। তাঁদের প্রত্যেকের অবদান আলাদাভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন, কিন্তু এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তা সম্ভব নয়।
এই লেখার উদ্দেশ্য কারও মর্যাদা নির্ধারণ করা বা কাউকে অন্যের তুলনায় বড়-ছোট করা নয়। বরং আমাদের মরহুম মুরুব্বী আলেমদের আদর্শ স্মরণ করে বর্তমান প্রজন্মের আলেমদের অবদানকে উপলব্ধি করা এবং নিজেদের ভুল-ত্রুটি থেকে শিক্ষা নেওয়া।
আজ আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, সৌহার্দ্য ও ঐক্য। আলিয়া-কওমি বিভাজন, ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিরোধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিদ্বেষ এবং রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের বৃহত্তর দ্বীনি স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আল্লাহ তাআলা নেত্রকোনা জেলার সকল মরহুম ওলামায়ে কেরামকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসিব করুন। জীবিত সকল আলেমে দ্বীনকে ইলম, আমল, হায়াত ও খেদমতে বরকত দান করুন। তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও ঐক্য সৃষ্টি করুন এবং আমাদের সবাইকে রাসুলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেখানো পথে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমীন।

মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন
অধ্যক্ষ, এন. আকন্দ কামিল মাদ্রাসা, নেত্রকোনা
মোবাইল: ০১৯১৬৭১১২৭১
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
সংযুক্তি: হাফেজ মাকসুদুল হাসান মাসুম

শেয়ার করুন

আরো খবর
Theme Customized By BreakingNews